আন্তর্জাতিক, আমেরিকা

হরমুজ প্রণালি সংকট: ৪.১৮ ডলারে ঠেকেছে মার্কিন তেলের গ্যালন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

বুধবার ২৯শে এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৪৯:১৮ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের (গ্যাস) দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় জ্বালানি তেলের বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দেশটির পাম্পগুলোতে প্রতি গ্যালন তেলের গড় দাম ৪.১৮ ডলারে ঠেকেছে।

এর আগে ২০২২ সালের এপ্রিলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ৪.১৫ ডলার ছাড়িয়েছিল। তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক বছর আগেও দেশটিতে প্রতি গ্যালন তেলের দাম ছিল ৩.১৫ ডলার, যা এখন এক ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর তুলনায় আমদানিকারক অঙ্গরাজ্যগুলোতে দামের ব্যাপক তারতম্য দেখা যাচ্ছে। তেল উৎপাদনকারী রাজ্য টেক্সাসে প্রতি গ্যালন তেলের দাম যেখানে ৩.৭২ ডলার, সেখানে ক্যালিফোর্নিয়ায় এই দাম গড়ে ৫.৯৬ ডলারে পৌঁছেছে।


মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১১ ডলারে পৌঁছেছে। গত মাসে এটি সর্বোচ্চ ১১৯ ডলারে উঠেছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের সময়ের তুলনায় এই দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।


বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। কিন্তু বর্তমানে এই জলপথটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা আলোচনা থমকে আছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের দেওয়া প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন। কারণ ইরান তাদের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানালেও পরমাণু চুক্তির বিষয়ে কোনো সমাধান দেয়নি।


ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন, ইরানি নেতারা তাকে জানিয়েছেন তাদের দেশ "ভেঙে পড়ার মুখে" এবং তারা দ্রুত এই জলপথ খুলে দিতে আগ্রহী।


এক নাটকীয় মোড় হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট 'ওপেক' ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘটনাকে ট্রাম্পের একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ওপেক-এর বিরুদ্ধে তেলের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে রাখার অভিযোগ তুলে আসছিলেন।


জ্বালানি তেলের এই আকাশচুম্বী দাম পশ্চিমা তেল কোম্পানিগুলোর জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম জানিয়েছে, বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৩.২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।


সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন