আন্তর্জাতিক, এশিয়া

হরমুজ প্রণালি সচল করতে ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্ত হতে চায় আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের সামরিক সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান-নিয়ন্ত্রিত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি মুক্ত করতে সামরিক অভিযানে যোগ দিতে ইচ্ছুক দেশটি।

ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে আরব আমিরাতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে তেহরান। এ অব্যাহত হামলার প্রেক্ষাপটে সামরিক অভিযানে নামার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাব বা সবুজ সংকেত পাওয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে আমিরাত। 

 

দেশটির এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, আমিরাতি কূটনীতিকরা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ ও এশিয়ার সামরিক শক্তিধর দেশগুলোকে নিয়ে একটি জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজে সামরিক দিক থেকে কতটা অবদান রাখতে পারবে, সেটিও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আরব কর্মকর্তাদের মতে, আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালিতে থাকা ইরান-অধিকৃত দ্বীপগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে, যার মধ্যে আমিরাতের দাবিকৃত ‘আবু মুসা’ দ্বীপটিও রয়েছে। এসব খবরের বিষয়ে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো অস্বীকৃতি জানায়নি; বরং এক বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট করেছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়ে একটি ব্যাপক বৈশ্বিক ঐকমত্য রয়েছে।

 

বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিকে ইরান দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে হামলা শুরুর আগে পর্যাপ্ত নোটিশ না দেওয়ায় এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উপসাগরীয় মিত্ররা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। তবে বর্তমানে প্রেক্ষাপট বদলেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা চান ইরানের সরকার পতন বা নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এ সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকুক। এখন সৌদি আরবসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো প্রকাশ্যে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

 

এদিকে, এ সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি হয়তো ঘনিয়ে আসছে। ওয়াশিংটন কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই যুদ্ধ বন্ধ করা অথবা তেহরানের নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তবে একই সঙ্গে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌসেনাও পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার কথা বললেও, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তিনি স্বীকার করেছেন, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছ থেকে তিনি সরাসরি বার্তা পাচ্ছেন, তবে এই বার্তা আদান-প্রদানকে কোনোভাবেই ‘আলোচনা’ বা সমঝোতা বলা যায় না বলে তিনি দাবি করেছেন।

 

তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন