বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’তে ইরানের কঠোর অবরোধ ভাঙতে ড্রোন মোতায়েনের কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অঞ্চলে মিত্র দেশগুলোর যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর জন্য জোরালো তাগিদ দেওয়ার পর ব্রিটেন এই পরিকল্পনার পথে হাঁটছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটেনসহ অন্যান্য মিত্র রাষ্ট্রগুলোকে একটি আন্তর্জাতিক নৌ-বহর গঠনের আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পারস্য উপসাগর থেকে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সব পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।
তেহরানের এই অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ইতিমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। এর প্রভাবে ব্রিটেনে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, ইরান এই সংকীর্ণ জলপথে অন্তত এক ডজন সামুদ্রিক মাইন স্থাপন করেছে, যা বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, "চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রিটেনের মতো দেশগুলো এই কৃত্রিম সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের উচিত অবিলম্বে এই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো। অন্যথায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান উপকূলের সব স্থাপনা ও শত্রু জাহাজ ধ্বংস করে দেবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "যেভাবেই হোক, আমরা হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত, নিরাপদ এবং মুক্ত করবই।"
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে ‘বিভিন্ন বিকল্প’ নিয়ে ভাবছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার।
১. মাইন শনাক্তকারী ড্রোন: রয়েল নেভির ‘মাইন অ্যান্ড থ্রেট এক্সপ্লয়টেশন গ্রুপ’ থেকে ড্রোন মোতায়েন করা হতে পারে। এই ড্রোনগুলো সমুদ্রের নিচে থাকা মাইনের উপস্থিতি নিশ্চিত করবে এবং জাহাজ চলাচলের সংকেত নকল করে নিরাপদ দূরত্বে মাইন বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম।
২. ‘অক্টোপাস’ ইন্টারসেপ্টর ড্রোন: ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত অত্যন্ত কার্যকর ব্রিটিশ ‘অক্টোপাস’ ড্রোনগুলো এবার ইরানের শাহেদ ড্রোনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনীয় অভিজ্ঞতার আলোকে এই ড্রোনগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হলে তা গেম-চেঞ্জার হতে পারে।
ব্রিটেনের এই পদক্ষেপে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক নৌ-প্রধান অ্যাডমিরাল লর্ড ওয়েস্ট। তিনি বলেন, "বাহরাইন থেকে যুদ্ধজাহাজ সরিয়ে নেওয়াটা ছিল সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত। বর্তমানে জিব্রাল্টার থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত আমাদের কোনো সক্রিয় যুদ্ধজাহাজ নেই, যা কৌশলগতভাবে বড় দুর্বলতা।"
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রথম প্রকাশ্য বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখতে হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ অব্যাহত থাকবে। এদিকে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রতিবাদে আজ লন্ডনে ‘আল কুদস দিবস’ পালিত হতে যাচ্ছে, যেখানে বিশাল জনসমাবেশের আশঙ্কায় সহস্রাধিক পুলিশ মোতায়েন করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে কৃষি ও পরিবহন খাতে নজিরবিহীন ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।
সূত্র: ডেইলি মেইল
ডিবিসি/এসএফএল