ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক মহড়া এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র বড় আকারের নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সংকীর্ণ জলপথটিতে আইআরজিসির প্রধানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নৌবাহিনী নিবিড় মহড়া পরিচালনা করছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে জানানো হয়েছে। বিশ্ব তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই রুটে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
একদিকে সামরিক শক্তি প্রদর্শন, অন্যদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা এই দ্বিমুখী পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য জেনেভায় পৌঁছেছেন। ওমানের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই ‘পরোক্ষ’ পারমাণবিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখছে। যদিও ওয়াশিংটন এর আগে কেবল পারমাণবিক ইস্যু নয়, বরং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রক্সিদের সমর্থনের বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনার জন্য চাপ দিয়ে আসছে।
গত জুন মাসে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বোমা হামলা চালালে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার পূর্ববর্তী আলোচনা ভেঙে গিয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর চলতি মাসে পুনরায় সেই আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে জুন মাসে পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ৪০০ কিলোগ্রামেরও বেশি মজুত রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডিবিসি/টিবিএ