মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা ইরানের হাতেই থাকছে, যা চলমান যেকোনো আলোচনা বা দরকষাকষিতে তেহরানকে ব্যাপক সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে।
একইসঙ্গে, উপসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমান নিরাপত্তাহীনতার মূল কারণ হিসেবে ‘আমেরিকার পুতুল ঘাঁটি’গুলোকে দায়ী করেছেন তিনি। যুদ্ধের শুরু থেকেই আঞ্চলিক দেশ, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে আসছে তেহরান। ইরানের দাবি, জিসিসি ভুক্ত দেশগুলোকে লক্ষ্য করে তাদের সাম্প্রতিক হামলার কারণ হলো ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি। তাই উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো যেকোনো উপায়ে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। মূলত এভাবেই মিত্র দেশগুলোতে নিজেদের হামলার পক্ষে যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে তারা।
আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে দায়ী করে মোজতবা খামেনি বলেন, এটি ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে যে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ভিনদেশি আমেরিকানদের উপস্থিতি এবং তাদের ঘাঁটি গেড়ে বসাই এই অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
মূলত ইরান ও তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা এবং এর জেরে এই অঞ্চলের দেশগুলোতে তেহরানের পাল্টা আঘাতের কারণেই বর্তমান এই নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মার্কিন মিত্রদের সতর্ক করে তিনি কঠোর সমালোচনা করে আরও বলেন, আমেরিকার এই পুতুল ঘাঁটিগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো শক্তি ও সক্ষমতাটুকুও নেই। তাই আমেরিকা এই অঞ্চলে তাদের ওপর নির্ভরশীল এবং আমেরিকাপন্থী মানুষদের নিরাপত্তা প্রদান করবে এমন আশা করার তো কোনো প্রশ্নই আসে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
ডিবিসি/কেএলডি