আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালী অবরোধ অব্যাহত থাকবে: মোজতবা খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি জাতির উদ্দেশে তাঁর প্রথম বার্তায় শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান তাঁর শহিদদের রক্তের প্রতিটি ফোঁটার প্রতিশোধ নেবে এবং এই প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক বার্তায় তিনি বলেন, “আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করছি যে, আমরা আমাদের শহিদদের রক্তের বদলা নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করব না। এই প্রতিশোধ কেবল প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার (আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি) শাহাদাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং শত্রুর হাতে নিহত প্রতিটি নাগরিকের রক্ত আমাদের কাছে একেকটি আলাদা প্রতিশোধের ফাইল।”


অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস-এর ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মোজতবা খামেনি বলেন, ইমাম খোমেনি এবং শহিদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মতো মহান ব্যক্তিত্বদের স্থলাভিষিক্ত হওয়া একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। তিনি বলেন, “আমি এমন একজনের উত্তরাধিকার বহন করছি, যিনি ৬০ বছর আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে নিজেকে এক উজ্জ্বল রত্নে পরিণত করেছিলেন।” তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর পিতার শাহাদাতবরণ এবং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দৃঢ়তা ছিল সত্যের ওপর অবিচল থাকার প্রতীক।


নতুন নেতা তাঁর বার্তায় ইরানের সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গত কয়েক দিন দেশ যখন নেতৃত্বহীন এবং প্রধান সেনাপতিহীন ছিল, তখন জনগণই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। পবিত্র কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “আল্লাহ যদি কোনো নিদর্শন সরিয়ে নেন, তবে তার চেয়েও উত্তম বা সমতুল্য কিছু দান করেন।” তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কুদস দিবসের শুক্রবার মিছিলে সর্বস্তরে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে শত্রুর পরাজয় ত্বরান্বিত হয়।


প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে মোজতবা খামেনি হুংকার দিয়ে বলেন, “হরমুজ প্রণালী অবরোধের লিভার অবশ্যই সচল রাখতে হবে।” তিনি আরও জানান, শত্রুর দুর্বল পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে নতুন ফ্রন্ট খোলার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া ইয়েমেন, হিজবুল্লাহ এবং ইরাকি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিরোধ ফ্রন্ট ইরানের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ইহুদিবাদী ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় এই ঐক্যই মূল চাবিকাঠি।


বার্তায় তিনি সাম্প্রতিক যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত এবং শহিদ পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি নিজের ব্যক্তিগত ত্যাগের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমি কেবল আমার পিতাকেই হারাইনি; বরং আমার স্ত্রী, বোন, ভাগ্নে এবং ভগ্নিপতিকেও শহিদের কাফেলায় তুলে দিয়েছি। এই ব্যক্তিগত শোক আমাকে জনগণের যন্ত্রণার সাথে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করেছে।” তিনি আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।


প্রতিবেশী ১৫টি দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছা পোষণ করলেও মোজতবা খামেনি কঠোর ভাষায় সতর্ক করেন যে, যেসব দেশ তাদের মাটিতে মার্কিন বা শত্রুপক্ষের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা কোনো আধিপত্য চাই না, তবে আমাদের জনগণের হত্যাকারীদের আশ্রয় দেওয়া ঘাঁটিগুলো বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ইরান নিজের সুরক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।”


বার্তার শেষে তিনি মরহুম নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির লক্ষ্য বাস্তবায়নের শপথ করেন এবং পবিত্র রমজান মাসে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর বিজয় ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।


সূত্র: তাসনিম


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন