হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে লোহিত সাগরে নিজেদের শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী বহর মোতায়েন করেছে ফ্রান্স। একই সঙ্গে প্রণালিটি নিয়ে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে এবং বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি এড়াতে ওয়াশিংটন ও তেহরানকে একটি সমঝোতা প্রস্তাবে আসার আহ্বান জানিয়েছে প্যারিস।
বুধবার (৫ মে) ফরাসি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই রণতরী মোতায়েনের ঘোষণা দেওয়া হয়। মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করতেই ফ্রান্স এই উদ্যোগ নিয়েছে।
বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে ফ্রান্স ও ব্রিটেন যৌথভাবে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-যান চলাচলের পথ সুগম করতে একটি পরিকল্পনা তৈরি করছে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো সংঘাত পরবর্তী সময়ে বা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে প্রণালি দিয়ে নিরাপদ বাণিজ্য নিশ্চিত করা। প্যারিস জানিয়েছে, অন্তত এক ডজন দেশ এই মিশনে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তবে এর সফলতার জন্য ইরানের সহযোগিতা অপরিহার্য।
ফরাসি সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিমানবাহী রণতরী 'শার্ল দ্য গোল' বর্তমানে দক্ষিণ লোহিত সাগরের পথে রয়েছে। এই বহরে ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের যুদ্ধজাহাজও যুক্ত রয়েছে। এই মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য হলো আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা, সংকটের মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যে থেকে অংশীদার দেশগুলোর সাথে সমন্বয় করা।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, তাদের প্রস্তাবটি অত্যন্ত স্পষ্ট, ইরান যদি পরমাণু কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়, তবে তাদের জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালি থেকে তাদের অবরোধ তুলে নিতে হবে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আমরা বিশ্বকে এই বার্তা দিতে চাই যে, আমরা কেবল হরমুজ প্রণালি সুরক্ষিত করতে প্রস্তুতই নই, বরং আমরা তা করতে সক্ষমও বটে।
বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি ওঠানামা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতদিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে ইউরোপ অনেকটা দর্শক হয়ে থাকলেও, নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় এখন তারা সক্রিয় ভূমিকা নিতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যখন ইউরোপীয় দেশগুলোকে মার্কিন নীতি অনুসরণ না করার জন্য সমালোচনা করা হচ্ছে, তখন এই নৌ-মিশন মোতায়েনকে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের একটি চেষ্টা হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই প্রস্তাবে রাজি হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে তেহরানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দর কষাকষির প্রধান অস্ত্র।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এসএফএল