হাইতির নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসরকারি সামরিক ঠিকাদারদের পরিচালিত ড্রোন হামলায় দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এসব অভিযানে অন্তত ১,২৪৩ জন নিহত এবং ৭৩৮ জন আহত হয়েছেন।
গত বছরের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে হাইতিয়ান বাহিনীকে সহায়তা করছে মার্কিন লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি সামরিক সংস্থা ‘ভেক্টাস গ্লোবাল’।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গ্যাং-বিরোধী অভিযানের নামে বিস্ফোরকবাহী কোয়াডকপ্টার ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।
গত বছরের ১ মার্চ থেকে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, শুধুমাত্র ওয়েস্ট ডিপার্টমেন্টেই ১৭ জন শিশু এবং ৪৩ জন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের সাথে কোনো অপরাধমূলক গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা ছিল না। এইচআরডব্লিউ এর আমেরিকার পরিচালক জুয়ানিতা গোয়েবার্টাস এক বিবৃতিতে এ পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, আরও শিশুর মৃত্যু ঠেকানোর জন্য হাইতিয়ান কর্তৃপক্ষের উচিত জরুরি ভিত্তিতে তাদের নিরাপত্তা বাহিনী এবং বেসরকারি ঠিকাদারদের লাগাম টানা।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, পোর্ট-অ-প্রিন্সের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ড্রোন হামলার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২৯টি হামলার ঘটনা ঘটলেও, নভেম্বর থেকে জানুয়ারির শেষ নাগাদ তা বেড়ে ৫৭টিতে দাঁড়িয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
এইচআরডব্লিউ এর গবেষকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া সাতটি ভিডিও বিশ্লেষণ করেছেন। এর মধ্যে চারটি ভিডিওর ভৌগোলিক অবস্থান নিশ্চিত করা গেছে, যা পোর্ট-অ-প্রিন্সের। ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, বিস্ফোরক সজ্জিত ড্রোনগুলো সাধারণ যানবাহন এবং লোকজনের ওপর নির্বিচারে আক্রমণ চালাচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের কেউ কেউ সশস্ত্র থাকলেও তারা সেই মুহূর্তে কোনো সহিংসতায় লিপ্ত ছিলেন না বা জীবনের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করছিলেন না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইতি সরকারকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইন ও মানবাধিকার নীতি অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এএমটি