আন্তর্জাতিক, ভারত

হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্য: মমতার বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভারতের নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং বাংলাদেশে সংঘটিত একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ করার অভিযোগ উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শিলিগুড়ি সাইবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগকারী হলেন কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায় সিং।


আইনজীবী রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, সম্প্রতি বিভিন্ন জনসভা ও রাজনৈতিক মঞ্চে বক্তৃতা করার সময় নির্বাচন কমিশনের মতো ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


বিশেষ করে, গত ২ জুন কলকাতার ধর্মতলার এক ধর্নামঞ্চে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জড়িয়ে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তাতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।


অভিযোগকারীর দাবি, এই ধরনের বক্তব্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সংহতির পরিপন্থী। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা উল্লেখ করে মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবি জানিয়েছেন ওই আইনজীবী। একই সঙ্গে তিনি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তও চেয়েছেন।


ধর্মতলার মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। তা নিয়ে বাংলাদেশে বড় বিক্ষোভ হয়েছিল। অন্য দেশের কথা বলছি না, আমি যে পয়েন্ট বলছি-ওরা মেঘালয় দিয়ে বাংলায় আসে। এখানে আসার পরে আমাদের এসটিএফ ধরে। এতদিন বলিনি, আজ অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছে বলে বললাম। উনি বললেন- আপনি বাংলার পুলিশকে বলে দিন এই কথা বাইরে যেন না বলে। এটা দেশের জন্য। কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন, কার কার নাম বেরিয়েছিল, আমি সব জানি।


বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দিষ্ট করে কোনো ঘটনার উল্লেখ করেননি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।


প্রসঙ্গত, গত বছর ডিসেম্বরে ঢাকায় ৩২ বছর বয়সী হাদিকে গুলি করে দুষ্কৃতকারীরা। পরে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশের এই তরুণ নেতার মৃত্যু হয়। হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সে সময় বাংলাদেশে ব্যাপক অসন্তোষ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল, যার মধ্যে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছিল।


সূত্র: এই সময়


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন