দেশের শিশুদের হামের ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত করতে আজ (১২ এপ্রিল) রবিবার ঢাকার মোহাম্মদপুরের ফার্টিলিটি সেন্টারে হাম ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় পর্যায়ের টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ঢাকা মহানগরীর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য সকল মহানগরীতে হামের সংক্রমণ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা।
গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির প্রথম পর্যায় শুরু হয়েছিল। আজ (১২ এপ্রিল) রবিবার থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্যায়ের এই কার্যক্রমে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগটি পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি মহানগরীতে বিস্তৃত হবে, যাতে কোনো শিশুই এই সুরক্ষা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ (UNICEF), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং গাভি (GAVI)-এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রমের ফলে হাজার হাজার শিশু হামের মতো মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি থেকে রক্ষা পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টিকাদান কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা নির্ধারিত ক্যাম্পে নিয়ে এসে টিকা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকার এবং স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ও প্রাণঘাতী রোগ হলেও সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন গ্রহণের মাধ্যমে এটি সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং দেশ থেকে হাম নির্মূলে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি আরও একবার প্রতিফলিত হলো।
ডিবিসি/টিবিএ