হামাসের নবনিযুক্ত সামরিক প্রধান মোহাম্মদ ওদেহকে লক্ষ্য করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তার পূর্বসূরি নিহত হওয়ার ঠিক ১১ দিনের মাথায় এই হামলা চালানো হলো। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গাজা থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক খবরে জানা গেছে, গাজা সিটির রিমাল এলাকার একটি আবাসিক ভবনে এই হামলা চালানো হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ২ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় মোহাম্মদ ওদেহ হামাসের গোয়েন্দা শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। গত সপ্তাহে ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদের স্থলাভিষিক্ত করে তাকে গাজা উপত্যকায় হামাসের শীর্ষ নেতা এবং এর সামরিক শাখার প্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর আগে, গত ১৫ মে গাজা সিটিতে আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) এর এক হামলায় আল-হাদ্দাদ নিহত হন।
নেতানিয়াহু এবং কাৎজ যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বহু ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক এবং আইডিএফ সৈন্য হত্যা, অপহরণ ও আহত করার পেছনে ওদেহের সরাসরি হাত ছিল।
সৌদি সংবাদমাধ্যম 'আশ-শারক আল-আওসাত' এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওদেহ নিহত আল-হাদ্দাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। চলমান যুদ্ধে হামাসের সাবেক শীর্ষ নেতা মুহাম্মদ দেইফ এবং মুহাম্মদ সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর, সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনে আল-হাদ্দাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছিলেন ওদেহ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের মে মাসে সিনওয়ার নিহত হওয়ার পরপরই ওদেহকে আল-কাসাম ব্রিগেডের নেতৃত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তখন তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তবে অন্য দুটি সূত্র এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহু এবং কাৎজ তাদের বিবৃতিতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ৭ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেকের পিছু নেওয়া আমরা অব্যাহত রাখব। আজ হোক বা কাল, ইসরায়েল তাদের সবার কাছে পৌঁছাবেই।
সূত্র: দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল
ডিবিসি/এসএফএল