আন্তর্জাতিক

হিজবুল্লাহকে ইরানের সমর্থন! ফের অনিশ্চিত শান্তিচুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কড়া দাবি জানিয়েছে ইরান। তেহরানের এই অনড় অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে প্রস্তাবিত চুক্তিটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট জানিয়েছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ ও দখলদারিত্বের অবসান হলেই কেবল চলমান এই সংঘাত থামবে। মূলত চার মাস ধরে চলা আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে লেবানন ইস্যুকেই প্রধান শর্ত হিসেবে জুড়ে দিয়েছে ইরান।

 

এর আগে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে একটি চুক্তির প্রস্তাব করা হলেও হিজবুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাশেম জানান, ওই চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত না থাকায় এবং আলোচনায় তাদের না রাখায় তারা এটি মানতে নারাজ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের মধ্যেও তেল আবিব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনোভাবেই লেবানন থেকে সেনা সরাবে না বা সেখানে সামরিক অভিযান বন্ধ করবে না।

 

কূটনৈতিক এই অচলাবস্থার কারণে রণাঙ্গনেও লড়াই থামেনি। গত শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে দুটি হামলা চালানোর দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। এর মধ্যে একটি হামলা হয়েছে সম্প্রতি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে যাওয়া ঐতিহাসিক বোফোর্ট দুর্গের কাছাকাছি এলাকায়। বিপরীতে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। উল্লেখ্য, গত মার্চের শুরুতে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ঠিক দুদিন পর লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়, যা তেহরানকে সমর্থন জানাতেই শুরু করা হয়েছে বলে দাবি হিজবুল্লাহর।

 

সার্বিক এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে শান্তির আশা প্রকাশ করলেও গাজা, উত্তর ইসরায়েল ও কুয়েতেও ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে ট্রাম্প নির্ভার থাকলেও নিজেদের রণকৌশলে অনড় তেহরান। ইরানি সংসদ সদস্য হামিদ-রেজা হাজি বাবায়ি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালিই হলো ‘সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা’। ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও মার্কিন বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

 

সূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন