উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর ছোঁড়া ড্রোন হামলায় ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস-এর (আইডিএফ) এক রিজার্ভিস্ট সৈন্য নিহত হয়েছেন। সোমবার (১১ মে) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহত ওই সৈন্যের নাম আলেকজান্ডার গ্লোভানিভ (৪৭)। তিনি পেতাহ তিকভা এলাকার বাসিন্দা এবং ট্রান্সপোর্ট সেন্টারের ৬৯২৪তম ব্যাটালিয়নের ওয়ারেন্ট অফিসার (রিজার্ভ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আইডিএফ-এর প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, গত রবিবার বিকেল ৪টার দিকে লেবানন সীমান্ত সংলগ্ন মানারা এলাকায় হিজবুল্লাহর বিস্ফোরক ভর্তি বেশ কয়েকটি ড্রোন আঘাত হানে। এর মধ্যে একটি ড্রোনের আঘাতে গ্লোভানিভ প্রাণ হারান। তিনি স্ত্রী, ১৫ বছর বয়সী এক ছেলে এবং আট মাস বয়সী কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
তার মা ফ্লোরা শোকাহত কণ্ঠে জানান, পরশু দিন আমাদের শেষ কথা হয়েছিল। আমি উত্তরের পরিস্থিতি নিয়ে সবসময় শঙ্কিত থাকতাম। কিন্তু ও বলত, ‘সব ঠিক আছে’। ও খুব ভালো মানুষ ছিল। ও আমার একমাত্র ছেলে, এখন আমার আর কেউ রইল না।
সোমবার দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অপর একটি ড্রোন হামলায় আইডিএফ-এর তিন সৈন্য আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করতে আসা একটি সামরিক হেলিকপ্টার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দক্ষিণ লেবাননে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। পরে অন্য একটি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। আইডিএফ জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটি শত্রুপক্ষের গুলিতে নয়, বরং যান্ত্রিক সমস্যার কারণে আটকা পড়েছিল। পরবর্তীতে প্রকৌশলীরা ত্রুটি সারিয়ে তুললে হেলিকপ্টারটি নিরাপদ স্থানে ফিরে আসে।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আইডিএফ দক্ষিণ লেবাননের ৯টি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। রিহান, জারজুয়া, কফর রুমান, মাশঘারা সহ ৯টি গ্রামের বাসিন্দাদের অন্তত এক কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বলা হয়েছে। সামরিক মুখপাত্র কর্নেল আভিচায় আদ্রায়ি সতর্ক করে বলেন, হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে শক্তিশালী হামলা চালানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ।
এদিকে, গত শনিবার নাবাতিহ এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় এক সিরীয় ব্যক্তি ও তার ১২ বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে সেনাবাহিনী। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। আইডিএফ-এর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর একটি ভবন থেকে বের হওয়া সন্দেহভাজনদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। বেসামরিক নাগরিক হতাহতের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত মার্চ মাস থেকে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে এই সংঘাত চলছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও বর্তমানে তা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল
ডিবিসি/এসএফএল