উত্তর ইসরায়েলের শমেরা সীমান্তের কাছে হিজবুল্লাহর একটি ড্রোন হামলায় ১২ জন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন। ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হিজবুল্লাহর একটি বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোন সরাসরি একটি সামরিক কার্গো ক্যারিয়ারে আঘাত হানে। এর জবাবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই শিশু ও পাঁচ নারীসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
আইডিএফ-এর তথ্যমতে, হিজবুল্লাহর ড্রোনটি শমেরা এলাকার একটি 'এম-৫৪৮' (M548) কার্গো ক্যারিয়ারে আঘাত করলে সেখানে থাকা কামানের গোলার বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। আহত ১২ সেনার মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, বাকিরা সামান্য আঘাত পেয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, হিজবুল্লাহ এই হামলায় ফাইবার অপটিক ক্যাবল নিয়ন্ত্রিত ড্রোন ব্যবহার করেছে, যা ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে আটকানো অসম্ভব। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননের আকাশে হিজবুল্লাহর সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলে ইসরায়েলের একটি 'হার্মিস ৪৫০' ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার খবরও নিশ্চিত করেছে আইডিএফ।
হিজবুল্লাহর হামলার পরপরই দক্ষিণ লেবাননের একাধিক গ্রামে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ৯ জন নিহত এবং অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও পাঁচজন নারী রয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সামাইয়াহ, হান্নিয়াহ এবং সিদ্দিকিনসহ আটটি গ্রামের বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল আভিচায় আদরাই বলেন, হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ড আইডিএফ-কে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গত ১৭ এপ্রিল যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল, তা কার্যত এখন অকার্যকর। গত ২৪ এপ্রিল এই যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হলেও সীমান্তে সংঘাত থামেনি।
ইসরায়েলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির গত বুধবার দক্ষিণ লেবানন সফরকালে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমানে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। অন্যদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে ইসরায়েলকে বেসামরিক নাগরিক এবং ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলা বন্ধ করতে চাপ দেওয়া হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোটের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন কূটনীতি ব্যর্থ হলে এই অঞ্চলে আবারও বড় ধরনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল
ডিবিসি/এসএফএল