আন্তর্জাতিক, অন্যান্য

হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় বিপর্যস্ত ইসরায়েল: নেতানিয়াহুর জরুরি বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর স্থল অভিযানের বিস্তার এবং প্রাণঘাতী বিমান হামলার জবাবে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলার ব্যাপকতা ও তীব্রতায় চরম অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছে ইসরায়েল। রবিবার (৩১ মে) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননের লিতানি নদীর উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী স্থল অভিযান জোরদার করার পর হিজবুল্লাহর হামলার তীব্রতা এবং তাদের পাল্টা আঘাতের কৌশল পরিবর্তন-উভয় বিষয়ই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে চমকে দিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অধিকৃত অঞ্চলের উত্তরাঞ্চলীয় জনপদগুলোতে অনবরত সতর্ক সংকেত, রকেট ভূপাতিত করার চেষ্টা এবং সরাসরি রকেট আঘাত হানার ঘটনায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছেন।


সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে হিজবুল্লাহ হাইফা, নাহারিয়া, আক্রে, সাফেদ এবং কিরিয়াত শমোনা লক্ষ্য করে একের পর এক রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। একই সময়ে তারা দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলাও চালায়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানিয়েছে, কেবল শনিবারেই লেবানন থেকে ২৫টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র বা রকেট ছোড়া হয়েছে।


গত মার্চ মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো সাফেদ ও কারমিয়েলসহ উত্তর ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বারবার বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো এই সময়টাকে সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র আন্তঃসীমান্ত সংঘর্ষের সময়কাল হিসেবে বর্ণনা করেছে। উত্তর অঞ্চলের বসতি স্থাপনকারীরা অনবরত সাইরেন, ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ এবং তা প্রতিহত করার শব্দের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আশ্রয়কেন্দ্রে কাটাতে বাধ্য হন।


ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক আগ্রাসন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে এবং লিতানি নদীর উত্তরাঞ্চলের ভূখণ্ডে আরও গভীরে অগ্রসর হয়েছে। নিরাপত্তার এই চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আপার গ্যালিলির বিভিন্ন অংশে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং জনসমাবেশ ও কর্মক্ষেত্রের কার্যকলাপে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।


দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের ব্যাপক বিস্তৃতির পরই এই পাল্টা সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো নাবাতিয়াহ, দেইর আল-জাহরানি, দিববিন এবং অন্যান্য এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে, অন্যদিকে তাদের স্থল সেনারা নাবাতিয়াহ প্রদেশের ঐতিহাসিক বুফোর্ট দুর্গের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।


লেবাননের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রবিবার আবাসিক বাড়িতে চালানো ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৮ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত মার্চের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৩,৩৭১ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১০,১২৯ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১৬ লাখেরও বেশি মানুষ।


বারবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের বিভিন্ন অংশে বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তেল আবিবের দাবি, হিজবুল্লাহ বাহিনীকে সীমান্ত থেকে দূরে সরিয়ে দিতে এবং ইসরায়েলের উত্তর ও মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে অব্যাহত আন্তঃসীমান্ত হামলার হুমকি হ্রাস করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।


অন্যদিকে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের এই হামলা চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন ও সামরিক অনুপ্রবেশের মোক্ষম জবাব এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার লক্ষ্যে এটি একটি বৈধ প্রতিরোধ আন্দোলন।


সূত্র: প্রেস টিভি


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন