আন্তর্জাতিক, অন্যান্য

হিজবুল্লাহর পেতে রাখা বোমায় ইসরায়েলি সেনা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর পেতে রাখা এক শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে এক ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাসহ আরও সাতজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নিহত ওই সেনার নাম মাস্টার সার্জেন্ট (রিজার্ভ) আলেকজান্ডার ফিলিন (২৯)। তিনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ৩৬তম ডিভিশনের সদর দপ্তরের একজন লড়াকু সেনা এবং হাইফা শহরের বাসিন্দা ছিলেন।


আইডিএফ-এর প্রাথমিক তদন্ত সূত্র জানায়, গত বুধবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে লেবাননের লিটানি নদীর তীরবর্তী এলাকায় ৩৬তম ডিভিশনের ডেপুটি কমান্ডার, তার অগ্রবর্তী কমাণ্ড টিম এবং একদল সেনা টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ হিজবুল্লাহর একটি শক্তিশালী বিস্ফোরক ডিভাইসের মুখোমুখি হন তারা এবং প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে।


বিস্ফোরণে ইসরায়েলি বাহিনীর বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গুরুতর জখম হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন, কর্ণেল পদমর্যাদার ৩৬তম ডিভিশনের ডেপুটি ডিভিশন কমান্ডার, ৫৫৬তম ট্রান্সপোর্ট রেজিমেন্টের একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার, অপর একজন রিজার্ভ কর্মকর্তা।


আইডিএফ জানিয়েছে, এই তিনজনের অবস্থা মাঝারি ধরনের আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া একজন নিয়মিত সেনা, দুইজন রিজার্ভ সেনা এবং একজন নারী সেনা এই ঘটনায় সামান্য আহত হয়েছেন। আহতদের সবাইকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তাদের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।


নিহত আলেকজান্ডার ফিলিনের জীবনকাহিনি বেশ আলোচিত। মাত্র ১২ বছর বয়সে ইউক্রেন থেকে কোনো অভিভাবক ছাড়াই একা ইসরায়েলে অভিবাসী হিসেবে এসেছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করার পরপরই পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরের কাছে একটি চেকপোস্টে ফিলিস্তিনি হামলাকারীকে প্রতিহত করে প্রথম আলোচনায় আসেন তিনি। ওই সময় সাহসিকতার সাথে হামলাকারীকে লাথি মেরে সরিয়ে দেন এবং গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তার এই বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে তিনি ইসরায়েলের সম্মানজনক ‘প্রেসিডেন্টস অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সেলেন্স’ লাভ করেছিলেন।


এই ঘটনার পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী লিটানি নদী সংলগ্ন এলাকায় হিজবুল্লাহর বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক আর্টিলারি (কামান) শেলবর্ষণ শুরু করে।


লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নাবাতিয়েহ অঞ্চলের কাফর তেবনিট গ্রামের কাছে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই ড্রোন হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।


এছাড়াও, বুধবার হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় আরও পাঁচ ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে আইডিএফ একটি রকেট লাঞ্চার ধ্বংসের দাবি করে, যা দিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।


এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত এমন এক সময়ে ঘটল যখন গত বুধবারই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ থাকার কথা।


তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান-মার্কিন চুক্তির শর্তে লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান থমকে থাকবে না। স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য বর্তমানে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা চলছে। যদিও হিজবুল্লাহ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এই ধরণের কোনো চুক্তি মেনে নেবে না বা স্বীকৃতি দেবে না, যা লেবাননে পুনরায় গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।


সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন