আন্তর্জাতিক, এশিয়া

হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করল লেবানন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সমস্ত প্রকার সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এখন থেকে হিজবুল্লাহর ভূমিকা কেবল রাজনৈতিক ক্ষেত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে পরিচালিত যেকোনো ধরনের সামরিক তৎপরতাকে অবৈধ ঘোষণা করে যেকোনো বহিঃআক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ অস্ত্রধারী তৎপরতা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম।

প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক রকেট ও ড্রোন হামলাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এর ফলে ইসরায়েল লেবাননের ওপর বড় ধরনের আগ্রাসন চালানোর অজুহাত পাচ্ছে।

 

এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার মধ্যেই লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালানোর দাবি করার পর, পাল্টা জবাবে দক্ষিণ বৈরুতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। 

 

রাষ্ট্র পরিচালিত জাতীয় সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, বৈরুতে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩০ জন নিহত এবং ১৪৯ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, রাতভর চালানো এই অভিযানে হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা সদর দপ্তরের প্রধান হুসেইন মাকলেড নিহত হয়েছেন। মাকলেড ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মূল দায়িত্বে ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।

 

লেবানন সরকারের এ কঠোর অবস্থান মূলত হিজবুল্লাহর ওপর ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চাপের বহিঃপ্রকাশ। ২০২৪ সালের যুদ্ধে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই তাদের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। এর আগে হিজবুল্লাহ কেবল লিটানি নদীর দক্ষিণ অংশ থেকে অস্ত্র সরাতে রাজি হলেও, লেবানন সরকার এখন বৈরুত থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরবর্তী আওয়ালি নদী পর্যন্ত এলাকাকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের আওতায় আনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঁচ ধাপের অস্ত্র উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে লেবানন সেনাবাহিনীর আরও কয়েক মাস সময় প্রয়োজন।

 

এদিকে চলমান সংঘাতের ফলে লেবাননজুড়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ লেবানন এবং বৈরুতের উপকণ্ঠ থেকে প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল উদ্দেশ্যমূলকভাবে হিজবুল্লাহ প্রভাবিত এলাকার সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে যাতে করে গোষ্ঠীর সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক জরুরি সতর্কবার্তায় সে দেশে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে লেবানন ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। দেশটির বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত হিসেবে বর্ণনা করেছে দূতাবাস।

 

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন