যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বিথী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে তাদের পরিবার। সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে নিহতদের পরিবার এই দাবি জানায়। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের আবাসন কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে ইউএসএফ পুলিশ জামিল লিমন ও নাহিদা বিথীর নিখোঁজ হওয়ার খবর জানায়। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হাউয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর লিমনের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়। লিমনের রুমমেট, ২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহ আবুগারবিয়াকে এই জোড়া খুনের দায়ে গ্রেপ্তার করেছে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস। নাহিদা বিথীর সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে আই-২৭৫ এবং ৪ নম্বর স্ট্রিট নর্থের নিকটবর্তী জলাশয় থেকে মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হলেও এখনো তার আনুষ্ঠানিক পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
লিমনের ভাই জুবায়ের আহমেদ জানান, লিমন ও তার অভিযুক্ত রুমমেট হিশামের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ছিল না। লিমন আগেই তার পরিবার ও বন্ধুদের হিশামের অসামাজিক ও 'অপ্রীতিকর আচরণ সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। এমনকি লিমন এবং তাদের আরেক ভারতীয় রুমমেট মিলে আবাসন কেন্দ্র অ্যাভালন হাইটস কর্তৃপক্ষের কাছে হিশামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জমা দিয়েছিলেন।
জুবায়ের আহমেদ বলেন, আমার ভাই সবসময় বলত ওর রুমমেট অসামাজিক ও রুক্ষ স্বভাবের, সে কিছুটা সাইকোপ্যাথ। তারা অভিযোগ জানালেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি আরও যোগ করেন, যথাযথ ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা অতীত ইতিহাস যাচাই না করেই লিমনের সাথে হিশামকে রুমমেট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল আবাসন কর্তৃপক্ষ।
নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত হিশাম সালেহ আবুগারবিয়ার জন্য আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়েছে। লিমন ও নাহিদার মরদেহ যেন ইসলামি শরিয়াহ ও রীতিনীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করা হয়, সে ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া অ্যাভালন হাইটস নামক আবাসন কমপ্লেক্সটিতে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। লিমনের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও অর্থ বাংলাদেশে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের স্মরণে একটি স্মারক স্থাপনের অনুরোধ করা হয়েছে।
অ্যাভালন হাইটস কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছে, আমরা আমাদের একজন আবাসিক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের অন্যতম সদস্যের মৃত্যুতে গভীরভাবে মর্মাহত। আমরা তদন্তে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে পূর্ণ সহযোগিতা করছি। তবে চলমান তদন্তের কারণে তারা এর বেশি কিছু বলতে রাজি হয়নি।
লিমনের ভাই জুবায়ের তার ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি ওর হাসি, ওর রাগ, এমনকি আমার সাথে ওর খুনসুটিগুলোও মিস করছি। আমি চাই মানুষ জানুক লিমন অনেক পরিশ্রমী, দয়ালু এবং বড় বড় স্বপ্ন দেখা একজন মানুষ ছিল। বর্তমানে লিমনের এক আত্মীয় ফ্লোরিডায় অবস্থান করছেন এবং মরদেহ দেশে পাঠানো ও আইনি প্রক্রিয়া তদারকি করছেন।
এদিকে অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবেহকে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে কোটে হাজির করা হয়। এসময় হিলসবোরো কাউন্টি জজ লোগান মারফি তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সূত্র: নিউজ চ্যানেল ৮
ডিবিসি/এসএফএল