আন্তর্জাতিক

হুথিদের হামলায় ইয়েমেনে বড় যুদ্ধের আভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর ওপর হুথি বিদ্রোহীদের হামলা জোরদার হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে আবারো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তীব্র হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি মারিব ও হাদরামাউতে সরকারি সামরিক ক্যাম্প ও সেনা জমায়েত লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা। বছরের পর বছর শান্ত থাকার পর এই হামলায় অন্তত ৩০ জন সরকারি সেনা নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে দাবি করেছেন, এই হামলায় তাদের প্রতিপক্ষের শত শত সদস্য নিহত হয়েছেন এবং একাধিক সামরিক ক্যাম্প ও অস্ত্রাগার ধ্বংস হয়েছে। তার দাবি, সৌদি সামরিক জোটের সম্ভাব্য এক বড় ধরণের অভিযানের প্রস্তুতি রুখে দিতেই তারা আগেভাগে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে ইয়েমেনের বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার মাধ্যমে হুথিরা দেশটির অস্থিতিশীল অবস্থাকে ফের নতুন করে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিল।

 

২০১৪ সালে হুথিরা দেশটির রাজধানী সানা দখল করার পর ২০১৫ সালে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর বড় ধরনের সংঘাত স্থগিত থাকলেও সাম্প্রতিক হামলা সেই শান্ত পরিস্থিতি ধুলিসাৎ করে দিয়েছে। ইতোমধ্যে সানাসহ বিভিন্ন স্থানে বাসিন্দারা আবার নতুন করে সংঘাতের আতঙ্ক অনুভব করছেন।

 

গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব হামলা প্রমাণ করে হুথিরা সমঝোতার পথ ছেড়ে আবারো সরাসরি যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছে। জাতিসংঘ-সমর্থিত আলোচনা স্থগিত থাকায় এবং রেড সি তথা লোহিত সাগরে পশ্চিমা জাহাজে তাদের আন্তর্জাতিক হামলার ধারাবাহিকতায় এবার দেশটির অভ্যন্তরীণ ফ্রন্টেও পরিস্থিতি রক্তক্ষয়ী রূপ নিতে যাচ্ছে। তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ মারিব অঞ্চলকে ঘিরেই মূল সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য শেখ ওসমান মাজালি হুথিদের যেকোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা উৎখাতের ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের মত, এই নতুন দফার সংঘাত যদি শুরু হয় তবে তা পূর্বের সমস্ত যুদ্ধের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী রূপ ধারণ করবে।

সূত্র: আল জাজিরা

আরও পড়ুন