প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে টেকনাফ থেকে ছেড়ে যাওয়া তিনটি সার্ভিস ট্রলার নিরাপদে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছেছে। ট্রলারগুলোতে মোট ১৫৯ জন যাত্রী ছিলেন; যার মধ্যে পুরুষ ৮০ জন, নারী ৪০ জন এবং শিশু ৩৯ জন। যাত্রীদের পাশাপাশি দ্বীপে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১১টায় টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী সার্ভিস ট্রলার ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে তিনটি সার্ভিস ট্রলার যাত্রী নিয়ে রওনা হয়। পরবর্তীতে বিকেল ২টায় ট্রলারগুলো সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে নিরাপদে পৌঁছায়।
সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে জারি করা সতর্কসংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সেন্টমার্টিন বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত ১ জুলাই থেকে ভারী বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী সার্ভিস ট্রলার চলাচল বন্ধ ছিল। টানা ১০ দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার সকাল ১১টায় ৩টি যাত্রীবাহী সার্ভিস ট্রলার সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। ট্রলারগুলোতে যাত্রীদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য ও খাদ্যসামগ্রী পরিবহন করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টার নৌযাত্রা শেষে ট্রলারগুলো নিরাপদে দ্বীপে পৌঁছায়।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকালে তিনটি যাত্রীবাহী ট্রলারে করে তিনি নিজেও টেকনাফে আটকে পড়া যাত্রীদের সঙ্গে নিরাপদে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছেছেন। তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেন্টমার্টিনের জন্য ৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দ্বীপের ৩০০ পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও পাঠানো হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মো. অনীক চৌধুরী জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে ট্রলার চলাচল বন্ধ ছিল। শনিবার সকালে ৩টি যাত্রীবাহী ট্রলার নিরাপদে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছেছে এবং এতে করে টেকনাফে আটকে থাকা যাত্রীরা নিজ গন্তব্যে ফিরেছেন।
তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেন্টমার্টিনের জন্য যে ৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে শনিবার ৩ টন চাল পাঠানো হয়েছে এবং বাকি ২ টন আগামীকাল পাঠানো হবে। পাশাপাশি দ্বীপের ৩০০ পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও পাঠানো হয়েছে।
ডিবিসি/এসএফএল