বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

১০ লাখ মানুষের চোখে আলো ফিরিয়ে চিরবিদায় নিলেন অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন

চট্টগ্রাম (উত্তর) প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দেশের চক্ষু চিকিৎসাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে লাখো মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম অগ্রদূত প্রখ্যাত চক্ষুবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন আর নেই। বার্ধক্যজনিত কারণে শনিবার (২৭ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম নগরের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (সিইআইটিসি) উপদেষ্টা এবং সাবেক ম্যানেজিং ট্রাস্টি ছিলেন। মিরসরাইয়ের সমাজসেবক ডা. আহমেদুর রহমান ও ওয়াহিদুন্নেসার একমাত্র পুত্র ডা. রবিউল মৃত্যুকালে দুই ছেলে ডা. রাজীব হোসেন ও রিয়াজ হোসেনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার এশার নামাজের পর জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রবিবার (২৮ জুন) সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা এবং মিরসরাইয়ের কাঠাছড়ায় জোহর নামাজের পর তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

 

চক্ষুচিকিৎসাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তাঁর অবদান দেশের চিকিৎসা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। চক্ষুরোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসেবা বিস্তারের লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি গঠন করেন। দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ চক্ষু শিবির পরিচালনার মাধ্যমে তিনি প্রায় ১০ লাখেরও বেশি রোগীর চোখের অপারেশন সম্পন্ন করেন। এছাড়া ১৯৭৫ সালে আট লাখ স্কুলগামী শিক্ষার্থীর দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার উদ্যোগও নেন তিনি।

 

১৯৭৩ সালে একদল চক্ষু বিশেষজ্ঞকে সঙ্গে নিয়ে তিনি চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি) প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল নামে বেশি পরিচিত। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তিনি ৩৫০ শয্যার ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ও নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজি’ এবং চার বছর মেয়াদী ‘ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন অপটোমেট্রি’ কোর্স চালুর ক্ষেত্রেও তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।

 

দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চক্ষুচিকিৎসায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জার্মানির ‘দি অর্ডার অব মেরিট’, আইএপিবি-এর ‘দি লাইফ লং সার্ভিসেস অ্যাওয়ার্ড’, এশিয়া প্যাসিফিক একাডেমি অব অফথালমোলজির ‘দি ডিস্টিংগুইশড সার্ভিসেস অ্যাওয়ার্ড’ ও স্বর্ণপদকসহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি এশিয়া প্যাসিফিক একাডেমি অব অফথালমোলজিতে ২০ বছরের বেশি সময় এবং আইএপিবি-এর চেয়ারম্যান হিসেবে টানা আট বছর নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘প্লেজার অ্যান্ড পেইন’ প্রকাশিত হয়।

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন