দেশের জনপ্রিয় মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নগদ গ্রাহকদের জন্য চালু করেছে ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট সেবা। একই সঙ্গে দেশের সব ব্যাংক এবং অন্যান্য মোবাইল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিকভাবে ‘ট্রান্সফার মানি’ বা অর্থ স্থানান্তরের সুবিধাও চালু করেছে ডাক বিভাগের এই ডিজিটাল লেনদেন সেবাটি। এর ফলে দেশজুড়ে থাকা প্রায় ১০ লাখ মার্চেন্ট পরিবারে যুক্ত হলো ‘নগদ’।
ক্যাশলেস লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সর্বজনীন করতে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নগদ প্ল্যাটফর্মে ‘বাংলা কিউআর’ এবং ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) সুবিধা যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে কোটি কোটি গ্রাহকের লেনদেনের স্বাধীনতা নিশ্চিত হলো।
‘বাংলা কিউআর’ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে নগদ আজ সকালে এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ। অনুষ্ঠানে প্রশাসক দলের অন্যান্য সদস্য এবং ঢাকায় কর্মরত নগদের চার শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। অনুষ্ঠান থেকে জানানো হয়, বাংলা কিউআর-কে জনপ্রিয় করতে নগদ সর্বাত্মক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
এখন থেকে নগদ গ্রাহকেরা দেশের যেকোনো দোকান, শপিং মল, রেস্তোরাঁ কিংবা বাজারে প্রদর্শিত ‘বাংলা কিউআর’ কোড স্ক্যান করে সরাসরি নগদ অ্যাপের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন। আলাদা আলাদা এমএফএস অপারেটর বা ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহারের ঝামেলা দূর করতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছে দিল নগদ।
এই উদ্যোগের ফলে গ্রাহকদের পাশাপাশি ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায়ীদের জন্যও দারুণ স্বস্তি আসবে। ব্যবসায়ীদের এখন আর একাধিক কিউআর কোড রাখতে হবে না। যেকোনো একটি ‘বাংলা কিউআর’ থাকলেই নগদ গ্রাহকেরা স্মার্টফোন দিয়ে চোখের পলকে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে ব্যবসা পরিচালনা যেমন সহজ হবে, তেমনি ডিজিটাল লেনদেন গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতাও অনেকাংশে কমে যাবে।
দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমে এতদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পৃথক কিউআর কোড ব্যবহারের কারণে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি ও সীমাবদ্ধতা ছিল। বাংলা কিউআর সেই বাধা দূর করে একটি অভিন্ন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যা ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, দ্রুত এবং গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।
বাংলা কিউআরের পাশাপাশি নগদে যুক্ত হয়েছে এনপিএসবি সুবিধা। এর মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি পর্যায়ের (P2P) লেনদেনে গ্রাহকেরা দেশের যেকোনো ব্যাংক হিসাব বা সব এমএফএস থেকে নগদ ওয়ালেটে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন। একইভাবে নগদ থেকেও যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা পাঠানো যাবে। ফলে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মধ্যে অর্থ লেনদেন আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন হবে। এই দুটি উদ্যোগের ফলে কাগজের নোট বা ছাপা টাকার ব্যবহার কমবে এবং দেশে ক্যাশলেস লেনদেন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, গ্রাহক ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষের জন্যই ক্যাশলেস লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করতে ‘বাংলা কিউআর’ একটি বৈপ্লবিক মাইলফলক। এখন থেকে নগদ গ্রাহকেরা যেকোনো দোকানে একটি মাত্র সমন্বিত কিউআর কোড স্ক্যান করেই চোখের পলকে ক্যাশলেস পেমেন্ট করতে পারবেন, যা ক্ষুদ্র বিক্রেতাদেরও ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্কে যুক্ত করবে। এই একক কিউআরভিত্তিক ব্যবস্থা ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ও সামগ্রিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে প্রধান ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, তাছাড়া এনপিএসবি যুক্ত হওয়ার ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতের সাথে নগদের তাৎক্ষণিক সংযোগ তৈরি হলো। এখন গ্রাহকেরা যেকোনো সময় যেকোনো ব্যাংক ও এমএফএস অ্যাকাউন্ট থেকে নগদে এবং নগদ থেকে ব্যাংকে ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে ‘ট্রান্সফার মানি’ করতে পারবেন। এটি গ্রাহকদের ব্যাংকে যাওয়ার সময় বাঁচানোর পাশাপাশি তাদের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনে শতভাগ স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।
দীর্ঘদিন ধরে এক এমএফএস থেকে অন্য এমএফএস-এ লেনদেনের পরিপূর্ণ সুবিধা চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছিল। তবে নগদের এই নতুন উদ্যোগের ফলে গ্রাহকেরা এখন সত্যিকার অর্থেই লেনদেনে ‘ইন্টারঅপারেবিলিটি’ বা আন্তঃসংযোগ সুবিধা পেলেন।
ডিবিসি/এসএফএল