জেলার সংবাদ

১২৪টি প্রতারণা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি আনিছ গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার, কুষ্টিয়া

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

১২৪টি অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এবং সাজাপ্রাপ্ত জেলখানা থেকে পলাতক আসামি মো. আনিছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানা পুলিশ। বুধবার রাত ১২টার দিকে রাজধানী ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আনিছুর রহমান কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ২০০৬ সালে নন্দলালপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিননগর এলাকায় বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের নামে বিশ্বাস সঞ্চয় ঋণদান ও সমবায় সমিতি লিমিটেড নামক একটি প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছিলেন।

 

পুলিশ, এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আনিছুর রহমান ২০০৬ সালে আলাউদ্দিননগর এলাকায় বিশ্বাস সঞ্চয় ঋণদান ও সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি এনজিও চালু করেন। আলাউদ্দিননগর থেকেই এনজিওর মূল কার্যক্রম পরিচালিত হতো। কয়েক বছরের মধ্যে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, পাবনা, ঝিনাইদহসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় কয়েক শ শাখা খোলেন তিনি। সেখানে তিনি দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে বিভিন্ন মেয়াদী ডিপিএসের নামে মোটা অঙ্কের টাকা জমা রাখতেন। একপর্যায়ে কয়েক শ কোটি টাকা জমা হলে তিনি তা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি, বাড়ি, গাড়িসহ বিভিন্ন সম্পদের মালিক হতে থাকেন। ২০২৩ সালের শুরুতেই এনজিও কর্মীরা বিষয়টি অনুমান করে তাঁদের লগ্নিকৃত টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এরপর ২০২৩ সালের নভেম্বরে তিনি অফিসে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান।

 

আরও জানা গেছে, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন আদালতে আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার প্রায় ১২৪টি মামলা হয় এবং বিজ্ঞ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ ছাড়া ১২টি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদী সাজাপ্রাপ্ত হন তিনি। এরপর ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল বিদেশে পালানোর সময় ঢাকা আন্তর্জাতিক শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া জেলখানায় প্রেরণ করা হয়। ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট দুপুরে কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে প্রতারক আনিছুর রহমানসহ ১০৪ আসামি পালিয়ে যায়।

 

কুমারখালী থানার উপপরিদর্শক সোহাগ শিকদার বলেন, 'তথ্যপ্রযুক্তি ও র‍্যাবের সহযোগিতায় এএসআই শরিফ ও কনস্টেবল রাশেদসহ অভিযান চালিয়ে ঢাকা বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে প্রতারক আনিছুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে ১২৪টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। যার মধ্যে ১২টি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত।'

এদিকে, প্রতারক আনিছুর রহমানের গ্রেপ্তারের খবর শুনে অনেক গ্রাহক থানায় ছুটে আসেন। পরে পুলিশ তাঁদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে কুমারখালী থানা চত্বরে সরেজমিন গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়।

এ সময় রাজবাড়ীর পাংশার মাছপাড়া এলাকার মৃত আকবর আলীর ছেলে আব্দুল মাজেদ (৬৪) বলেন, 'সারাজীবন গার্মেন্টসে চাকরি করে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা জমেছিল। চার বছরে দ্বিগুণ লাভের আশায় আনিছের বিশ্বাস এনজিওতে রেখেছিলাম। কিন্তু দুই বছরের মাথায় সব টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল আনিস। গ্রেপ্তারের খবর শুনে থানায় আসছি।'

 

তার স্ত্রী বিনা খাতুন বলেন, 'দ্বিগুণ লাভের আশায় এখন সব শেষ। সর্বহারা হয়ে থানায় এসেছি। পুলিশ বলছে কোর্টে মামলা করতে।'

 

২০১৩ সাল থেকে বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের এনজিওতে চাকরি করেছেন কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের জাহেদপুর গ্রামের গোলাম রব্বানীর স্ত্রী জাহানারা খাতুন। তিনি বৃহস্পতিবার থানা চত্বরে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘চাকরির বেতন, বোনাস, জমির ইজারা, গরু-ছাগল বিক্রিসহ মোট প্রায় ৩০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম আনিসকে। সব মেরে দিয়ে চলে গেছে।’

 

তার ভাষ্য, এনজিওর নামে আনিস প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নিজের নামে বাড়ি, গাড়িসহ সম্পদের পাহাড় গড়েছে।

 

প্রতারক আনিসুরের ভাগ্নি বিনা খাতুন বলেন, 'দ্বিগুণের লাভের আশায় মামার কাছে তিন লাখ টাকা রেখেছিলাম। কিন্তু এখন সব শেষ হয়ে গেছে। হয় টাকা ফেরত দিক, নয়তো তার ফাঁসি দিক সরকার।'

 

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে সুকৌশলে আনিস কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আদালতে মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ৭ আগস্ট জেল থেকে পালিয়ে গিয়েছিল সে। তাকে ফের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের খবর শুনে অনেক ভুক্তভোগী থানায় এসেছিল।

 

ডিবিসি/এসডব্লিউএন

আরও পড়ুন