রাজনীতি

১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে: প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগস্টে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার পরিস্থিতির বিষয়ে পুরোপুরি অবগত এবং এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন। দায়িত্ব নিয়ে কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নিছক কথার আড়ালে সত্য লুকানোর কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। বর্তমান সংকটের জন্য জ্বালানি খাতের দীর্ঘদিনের নীতিগত ভুল এবং সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে দায়ী করেন তিনি, যা জ্বালানি সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

 

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের অতিরিক্ত নির্ভরতার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। তবে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ালে শিল্প ও আবাসিক খাতে সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে বিধায় সরকার এই তিন খাতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করছে।

 

উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অন্যান্য কারণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে এবং মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমপরিমাণ ক্ষমতার আরেকটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপ চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের স্থলে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিচ্ছে। পাশাপাশি, গত ২১ জুলাই দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় চাপ সৃষ্টি হলেও এর প্রায় ৮৮ শতাংশ ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিটগুলো দ্রুত চালুর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, আগস্টের দুর্ভোগ যেন সেপ্টেম্বর মাসে আর পোহাতে না হয়, সে জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। এছাড়া আগামী গ্রীষ্মের কথা মাথায় রেখে বিদ্যুৎ সরবরাহ জোরদারে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন