দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (৩১ মে) ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য-‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী তার পোস্টে তামাক ও নিকোটিনের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা তুলে ধরে বলেন, বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা ও গুলের মতো পণ্যগুলো হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার এবং ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগের মতো অসংক্রামক ব্যাধির প্রধান কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি কিছু উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটে অসংক্রামক রোগের কারণে, যার পেছনে মূল উসকানিদাতা তামাক। ‘টোব্যাকো এটলাস ২০২৫’-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারের ফলে চিকিৎসা ব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনীতিতে বছরে ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তামাকের প্রলোভন থেকে আমাদের শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করেছে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশের নেওয়া বিভিন্ন ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ২০০৩ সালে এফসিটিসি-তে স্বাক্ষর, ২০০৪ সালে অনুসমর্থন এবং ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। পরবর্তীতে এই আইনকে আরও কঠোর করতে সংশোধন আনা হয়েছে।
নতুন সংশোধনীর আওতায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো নিয়ে তিনি লিখেন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অ্যাপস, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, নাটক ও সিনেমাসহ সব মাধ্যমে তামাকের যেকোনো ধরনের প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কোম্পানির প্রচারণাও বন্ধ করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ। ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন নিষিদ্ধ করে আইন অমান্যকারীদের জন্য শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বার্তার শেষাংশে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেশব্যাপী গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
ডিবিসি/এসএফএল