বিশ্বফুটবলের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার দেখা হয়েছে মাত্র একবার। ২০০৭ সালের ৫ জুনের সেই প্রীতি ম্যাচটি যারা দেখেছিলেন, তাদের চোখে এখনো লেগে থাকার কথা এক ঝাঁকড়া চুলের তরুণের জাদুকরী ড্রিবলিং।
বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে সেদিন আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে নাচিয়ে ছেড়েছিলেন ২০ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। ১৯ বছর পর, ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন দল দুটি আবার মুখোমুখি হচ্ছে, তখন সেই ক্যাম্প ন্যুর চেনা মুখগুলোর মধ্যে মাঠ মাতাতে টিকে আছেন কেবল একজনই-লিওনেল মেসি।
ক্যাম্প ন্যুর সেই গোলবন্যাভেনিজুয়েলার কোপা আমেরিকার প্রস্তুতি ম্যাচ হিসেবে স্পেনের মাটিতে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল আলফিও বাসিলের আর্জেন্টিনা। রবার্তো আয়ালা, হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন কিংবা হুয়ান রমান রিকেলমেদের মতো কিংবদন্তিদের পাশে সেদিন খেলেছিলেন তরুণ মেসি। ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল এক অবিশ্বাস্য গোলবন্যা ও রোমাঞ্চে। ম্যাচের দেড় মিনিটেই পেনাল্টি থেকে 'আপাচে' খ্যাত কার্লোস তেভেজ আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন। তবে আফ্রিকান সিংহরা দমে যায়নি। ৯ মিনিটে আনথার ইয়াহিয়া এবং প্রথমার্ধের ঠিক আগে মাজিদ বুঘেরার গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে আলবিসেলেস্তেদের স্তব্ধ করে দেয় আলজেরিয়া।
২০০৭ সালের আর্জেন্টিনার সেই তারকাখচিত একাদশ: রবার্তো আবোনদানসিয়েরি, গ্যাব্রিয়েল মিলিতো, রবার্তো আয়ালা, নিকোলাস বুরদিসো, হাভিয়ের পিনোলা, হাভিয়ের জানেত্তি, ফার্নান্দো গাগো, এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসো, কার্লোস তেভেজ, দিয়েগো মিলিতো এবং লিওনেল মেসি।
দ্বিতীয়ার্ধে মেসির রুদ্ররূপ ১-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করেই খোলস ছেড়ে বের হয় আর্জেন্টিনা। শুরু হয় মেসি-ম্যাজিক। মাত্র ৩ মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয় আলবিসেলেস্তেরা:৫৫ মিনিট: পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান মেসি। মেসির গোলের ঠিক পরের মিনিটেই জালের ঠিকানা খুঁজে নেন ক্যাম্বিয়াসো (৩-২)।
৭৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন মেসি। শেষ মুহূর্তে আলজেরিয়ার বেলহাদজি একটি গোল শোধ করলেও ৪-৩ ব্যবধানের এক রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়া বিবরণ পরিসংখ্যান মোট ম্যাচ ১টি। আর্জেন্টিনার জয় ১টিই। বিশ্বমঞ্চে নতুন লড়াইয়ের সমীকরণ ১৯ বছর আগের সেই প্রীতি ম্যাচের পর এবারই প্রথম কোনো অফিশিয়াল টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা এবার মাঠে নামছে তাদের বিশ্বজয়ের শিরোপা ধরে রাখার মিশন নিয়ে। প্রথম ম্যাচেই জয় দিয়ে দারুণ শুরু করতে মরিয়া বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
অন্যদিকে, গতিময় ফুটবল আর কাউন্টার অ্যাটাকের জন্য পরিচিত আলজেরিয়া, যাদের ফুটবল বিশ্বে ‘দ্য ডেজার্ট ফক্সেস’ বা মরুভূমির শিয়াল বলা হয়, তারা মুখিয়ে আছে বিশ্বমঞ্চে এক বড় অঘটনের জন্ম দিতে। বুধবার সকালে কানসাস সিটিতে মেসির আর্জেন্টিনা নাকি আলজেরিয়ার মরুভূমির শিয়ালরা শেষ হাসি হাসবে-তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।
ডিবিসি/এসএফএল