অভিবাসন বিরোধী কঠোর পদক্ষেপের মধ্যেই ধনী বিদেশিদের জন্য ১ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দিতে 'গোল্ড কার্ড' ভিসা স্কিম চালু করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
একইসঙ্গে তিনি ৫ মিলিয়ন ডলারের 'প্ল্যাটিনাম কার্ড'-এরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, যার মাধ্যমে এর ধারকরা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর থেকে অব্যাহতি পাবেন।
বুধবার (১০ই ডিসেম্বর) তারিখে ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘সকল যোগ্য ও যাচাইকৃত মানুষের জন্য নাগরিকত্বের সরাসরি পথ। খুবই উত্তেজনাপূর্ণ! আমাদের মহান আমেরিকান কোম্পানিগুলো অবশেষে তাদের অমূল্য মেধাবীদের ধরে রাখতে পারবে।’
সরকারের একটি অফিসিয়াল ওয়েবপেজে নতুন 'ট্রাম্প গোল্ড কার্ড'-এর মাধ্যমে "রেকর্ড সময়ে" যুক্তরাষ্ট্রের রেসিডেন্সি পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই কার্ড পেতে আবেদনকারীদেরকে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতে (DHS) ১৫,০০০ ডলার প্রসেসিং ফি দিতে হবে, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক পাস করতে হবে এবং ১ মিলিয়ন ডলার জমা দিতে হবে।
সেপ্টেম্বরের একটি নির্বাহী আদেশ অনুসারে, ব্যক্তিগত আবেদনকারীদের জন্য ১ মিলিয়ন ডলার এবং কর্মচারীদের স্পন্সরকারী ব্যবসার জন্য ২ মিলিয়ন ডলার দিতে হবে। ব্যবসাগুলোকে এরপর ২০,০০০ ডলারের ১% বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফি এবং প্রতিবার একজন কর্মচারীর কাছ থেকে অন্য কর্মচারীর কাছে ভিসা স্থানান্তরের জন্য ১০০,০০০ ডলারের ৫% স্থানান্তর ফি দিতে হবে।
এই কর্মসূচি এমন সময়ে এলো যখন ট্রাম্প প্রশাসন লাখ লাখ নথিবিহীন অভিবাসীদের বিতাড়িত করার জন্য উল্লেখযোগ্য সম্পদ ব্যয় করছে। এই 'গোল্ড কার্ড' কর্মসূচি ইতিমধ্যেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে, কারণ এটি কঠোর পরিশ্রমী দরিদ্রদের জন্য আশ্রয়স্থল হিসেবে আমেরিকার ঐতিহ্যগত ভাবমূর্তির সাথে সাংঘর্ষিক।
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, একটি 'ট্রাম্প প্ল্যাটিনাম কার্ড'ও ‘শীঘ্রই আসছে'। ৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই কার্ডের ধারকরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২৭০ দিন পর্যন্ত থাকতে পারবেন এবং এই সময়ে তাদের অ-মার্কিন আয়ের ওপর কোনো মার্কিন কর দিতে হবে না।
ট্রাম্পের মতে, এই নতুন কর্মসূচি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ‘এমন একটি অ্যাকাউন্টে যাবে, যেখান থেকে আমরা দেশের জন্য ইতিবাচক কিছু করতে পারব’ এবং এটি ‘বহু বিলিয়ন ডলার’ আয় করবে।
ট্রাম্প সেপ্টেম্বরে একটি নির্বাহী আদেশে এই 'গোল্ড কার্ড'-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করেন। যখন ফেব্রুয়ারিতে প্রথম এই কর্মসূচির কথা জানা গিয়েছিল, তখন ভিসার দাম ছিল ৫ মিলিয়ন ডলার। দাম কমানোর ফলে অন্যান্য দেশে বিদ্যমান অনুরূপ 'পে টু জাম্প দ্য লাইন' (অর্থের বিনিময়ে লাইনে এগিয়ে যাওয়া) কর্মসূচির তুলনায় এই কার্ডটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেতে পারে।
ডিএইচএস সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম এই কর্মসূচির প্রশংসা করে এক্স-এ বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের অধীনে, যোগ্য ব্যক্তি ও কর্পোরেশন যারা যথাক্রমে ১ মিলিয়ন ও ২ মিলিয়ন ডলারের অবদান রাখবেন, তারা কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর দ্রুত EB-1 বা EB-2 গ্রিন কার্ড পাবেন।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ডিবিসি/এনএসএফ