২০২৫ সালে বাংলাদেশের কূটনীতি মূলত ভারতকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে। বিদায়ী বছরে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি তলব এবং ছয়বার হাইকমিশনারকে তলবের ঘটনা ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
এছাড়া পাকিস্তান ও চীনের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ধের বিষয়টি বছরজুড়ে গুরুত্ব পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গত বছরটি ছিল কূটনীতির জন্য অত্যন্ত আগ্রহোদ্দীপক এবং পুরো বছরের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করেই আগামীর পথে এগোতে হবে।
বছরের শুরুতেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনার জেরে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করা হয়। বছরের প্রথমার্ধ জুড়ে ভারতীয়দের পুশ-ইন মোকাবিলার বিষয়টিও ছিল দৃশ্যমান। মার্চের শেষে প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। যদিও এই সফরে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি, তবুও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সফরটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এপ্রিলে বিমসটেক সম্মেলনে ইউনূস-মোদী বৈঠকের পর ভারতের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হলেও বাস্তবে তেমনটি ঘটেনি।
জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের পণ্য প্রবেশে বাড়তি শুল্ক আরোপ করে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক সাহাব এনাম খান মনে করেন, বর্তমান সরকার এই পরিস্থিতি ভালোভাবেই মোকাবিলা করেছে। একই মাসে ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক মিশন খোলা নিয়ে কূটনীতিপাড়ায় উত্তাপ ছড়ায়। আগস্টে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে যায়। তবে এই মাসেই পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফর এবং অক্টোবরে দেশটির পেট্রোলিয়াম বিষয়ক মন্ত্রীর আগমনে সম্পর্কের উন্নয়নের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বছরের শেষ দিকে মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারতের ফেরত দেওয়া এবং ডিসেম্বরে তরুণ নেতা হাদী হত্যাকান্ড নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. আমেনা মহসীনসহ অন্যরা মনে করেন, আগামীতে প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্ক, নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মনোভাব এবং বাংলাদেশের পাসপোর্টের মান বৃদ্ধির পরিকল্পনা পররাষ্ট্র নীতির প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।
ডিবিসি/এএমটি