দেশের ২০ হাজার ৬৭১ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দিতে যাচ্ছে সরকার। এই কার্ডের আওতায় বছরে আড়াই হাজার টাকাসহ আরও কিছু সুবিধা পাবেন তারা।
পহেলা বৈশাখে 'কৃষক কার্ড' বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন উপলক্ষে রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২২ হাজার ০৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তার মধ্যে ভূমিহীন কৃষক (৫ শতকের কম জমির মালিক) ২,২৪৬ জন; প্রান্তিক কৃষক (৫-৪৯ শতক জমির মালিক) ৯,৪৫৮ জন; ক্ষুদ্র কৃষক (৫০-২৪৯ শতক) ৮,৯৬৭ জন; মাঝারি কৃষক (২৫০-৭৪৯ শতক) ১,৩০৩ জন ও বড় কৃষক (৭৫০ শতকের বেশি) ৯১ জন আছেন।
"তাদের ফসল উৎপাদনকারী কৃষক ২১,১৪১ জন, মৎস্যজীবী ৬৬ জন, প্রাণিসম্পদ খামারি ৮৫৫ জন, লবণ চাষী ০৩ জন। মোট বাছাইকৃত ২২,০৬৫ জন কৃষকের মধ্যে কেবল প্রণোদনার জন্য নির্বাচিত ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের সংখ্যা ২০,৬৭১ জন, যা মোট কৃষকের ১৩.৭%।"
তিনি বলেন, ওই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা প্রণোদনা ও সেবা নেবেন; সংশ্লিষ্ট ডিলারের সরবরাহ করা মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ, মৎস্য/প্রাণি খাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন।
প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের জন্য সরকারবে ব্যয় হচ্ছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বলে তিনি তুলে ধরেন। এই প্রাক-পাইলটিং সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর দেশের ১৫ টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।।
আমিন উর রশিদ বলেন, পাইলাটিংয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরে সারাদেশে এই কার্ড বিতরণ ও ডাটাবেজ তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আওতায় দেশের সকল কৃষককে যুক্ত করা হবে বলে মন্ত্রী তুলে ধরেন। তবে টাকার আওতায় আসবে কেবল ভূমিহীন, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষক।
এই কৃষক কার্ড শতভাগ রাজনৈতিক মুক্ত। অতীতে যা হয়েছে, তা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই, বলেন আমিন উর রশিদ।
'কৃষক কার্ড' বিতরণ উদ্বোধন করা হবে পহেলা বৈশাখে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
ডিবিসি/ এইচএপি