বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘি থেকে উদ্ধার করা কুমিরটি খুলনার বন্যপ্রাণী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনার পর গত ২০ দিনেও কোনো খাবার গ্রহণ করেনি। তবে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, সরীসৃপ প্রজাতির এই প্রাণীটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৩ জুন কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে কুমিরটির খাঁচায় নিয়মিত জ্যান্ত হাঁস, মুরগি ও মাছ সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কুমিরের থাকার জায়গার পানিও নিয়মিত পরিবর্তন করা হচ্ছে। তবে যথাযথ পরিচর্যা ও খাবার সরবরাহ করা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কুমিরটি কোনো খাবার স্পর্শ করেনি।
এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, সরীসৃপ প্রজাতির প্রাণী একবার পেট পুরে খাবার খাওয়ার পর দীর্ঘ দিন না খেয়েও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকতে পারে। ৫০ বছর বয়সী, প্রায় ৭ থেকে ৮ ফুট লম্বা এই কুমিরটির আনুমানিক ওজন ৪৫০ থেকে ৬০০ কেজি। শরীর-স্বাস্থ্য ভালো ও চর্বিযুক্ত হওয়ায় এর শারীরিক নড়াচড়া কিছুটা কম। তবে দীর্ঘ সময় না খেলেও এর স্বাস্থ্যের কোনো অবনতি হবে না।
খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান, কুমিরটি সুস্থ-সবল রয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে মানুষের আর কোনো ক্ষতি হবে না-এমন প্রয়োজনীয় ও নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হলে, কুমিরটিকে পুনরায় খান জাহান আলী মাজারের দিঘিতেই অবমুক্ত করা হবে। অন্যথায় সেটিকে কোনো সাফারি পার্ক বা চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন খান জাহান আলী মাজারের দিঘিতে এই কুমিরটির আক্রমণে ফাতেমা নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ৩ জুন দিঘি থেকে কুমিরটি উদ্ধার করে খুলনার পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়।
ডিবিসি/এসএফএল