আন্তর্জাতিক, এশিয়া

২ বছর পর রবিবার থেকে সীমিত পরিসরে খোলা হচ্ছে রাফাহ ক্রসিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর আগামী রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে গাজা উপত্যকা ও মিশরের সংযোগস্থল রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। তবে এই ক্রসিংটি এখনই সবার জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে না। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বেসামরিক বিষয় তত্ত্বাবধানকারী সংস্থা 'কোঅর্ডিনেটর অফ গভর্নমেন্ট অ্যাক্টিভিটিজ ইন দ্য টেরিটরিজ' (COGAT) শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্রসিংটি কেবলমাত্র সীমিত পরিসরে মানুষের চলাচলের অনুমতি দেওয়ার জন্য খোলা হবে।

এ পদক্ষেপটি মূলত হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান মার্কিন মধ্যস্থতায় পরিচালিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ের একটি অংশ। যদিও এই ক্রসিং খোলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দীর্ঘমেয়াদী সময়সীমা এখনও নির্ধারিত হয়নি। উল্লেখ্য, গাজার প্রায় দুই মিলিয়ন বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য খাদ্য, জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং আশ্রয়ের অভাব দূর করতে এই ক্রসিংটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানবিক প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

চলতি সপ্তাহের শুরুতে গাজায় আটক থাকা শেষ ইসরায়েলি বন্দীর দেহাবশেষ উদ্ধার ও ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায়ের প্রধান অংশটি সম্পন্ন হয়েছে। এরপরই হামাস এক বিবৃতিতে ইসরায়েলকে চুক্তির সমস্ত শর্ত দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়। হামাসের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে যেন রাফাহ ক্রসিংয়ের উভয় দিকে কোনো রকম বিধিনিষেধ ছাড়াই মানুষের চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়।

 

তবে নিরাপত্তা ইস্যুতে ইসরায়েল তাদের অবস্থানে অনড়। ইসরায়েল চায় এ ক্রসিংয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে। COGAT স্পষ্ট করেছে, রাফাহ দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে মিশরের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে ঠিকই, তবে গাজায় প্রবেশ বা বের হওয়ার জন্য প্রত্যেক ব্যক্তিকে অবশ্যই ইসরায়েলের কাছ থেকে পূর্ব "নিরাপত্তা ছাড়পত্র" গ্রহণ করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে, যা অনেকটা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গৃহীত প্রক্রিয়ার অনুরূপ।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যারা যুদ্ধের সময় গাজা ছেড়ে গিয়েছিলেন, তাদের ফিরে আসার ক্ষেত্রেও কঠোর স্ক্রিনিং করা হবে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি নির্ধারিত করিডোরে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই কেবল মিশরের দিক থেকে গাজায় প্রবেশের অনুমতি মিলবে। যদিও যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েলি বাহিনী তথাকথিত "হলুদ রেখা" থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কথা, তবে বর্তমানে এ এলাকাটি এখনও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দখলেই রয়েছে।

 

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন