বাংলাদেশ, রাজধানী

৩৫ জেলায় নিপাহ্ ভাইরাস শনাক্ত, খেজুর রস পানে সতর্কতা জারি

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

বুধবার ৭ই জানুয়ারী ২০২৬ ০৪:২৬:০৩ অপরাহ্ন
Facebook NewsTwitter NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫টি জেলায় নিপাহ্ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং এই ভাইরাসের বিস্তার ও সংক্রমণের ধরন উদ্বেগজনক হারে পরিবর্তিত হচ্ছে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গত বছর দেশে রেকর্ডকৃত চারটি কেসের সবকটিতেই আক্রান্তদের মৃত্যু হয়েছে, অর্থাৎ মৃত্যুর হার ছিল ১০০ শতাংশ। এছাড়া প্রথমবারের মতো দেশে একটি ‘অ-মৌসুমি কেস’ শনাক্ত হয়েছে, যা প্রচলিত শীতকালীন সংক্রমণের ধারণা বদলে দিয়েছে।

 

বুধবার (৭ই জানুয়ারি) দুপুরে আইইডিসিআরের নিজস্ব মিলনায়তনে ‘নিপাহ‌্ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা। প্রবন্ধে বলা হয়, ২০২৫ সালে দেশের নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী এই চার জেলায় চারজন নিপাহ রোগী শনাক্ত হন এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেন। বিশ্বব্যাপী নিপাহ‌্ ভাইরাসে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার যেখানে প্রায় ৭২ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে গত বছর এই হার ছিল শতভাগ।

 

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নওগাঁর ঘটনাটিকে। সেখানে ৮ বছরের এক শিশু ‘অ-মৌসুমি নিপাহ্ কেস’ হিসেবে শনাক্ত হয়। সাধারণত শীতকালে খেজুরের রস থেকে এই রোগ ছড়ালেও, শিশুটি আগস্ট মাসে আক্রান্ত হয়েছিল। অনুসন্ধানে জানা যায়, শিশুটির সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধাখাওয়া ফল (কালোজাম, খেজুর বা আম)। এটি নিপাহ ছড়ানোর একটি নতুন এবং ‘এলার্মিং’ মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

 

প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার অন্যান্য জেলার তুলনায় বেশি। ঐতিহাসিকভাবে খেজুরের কাঁচা রসকে প্রধান উৎস মনে করা হলেও, ২০২৫ সালের ঘটনা প্রমাণ করে যে, বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত যেকোনো আধাখাওয়া ফল সরাসরি খাওয়ার মাধ্যমে সারা বছরই সংক্রমণ ঘটতে পারে। এছাড়া মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের ঝুঁকির কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে নিপাহ‌্ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি স্বাস্থ্যকর্মী বা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি বড় ‘ওয়ার্নিং সিগন্যাল’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নিপাহ্ এখন শুধু শীতকাল বা খেজুরের রসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি একটি সারা বছরের এবং বহুমুখী সংক্রমণের হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।

 

নিপাহ্ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, ইতোমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগের বছর ২০২৪ সালেও দেশে নিপাহ ভাইরাসে ৫ জন আক্রান্ত হয়ে সবার মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৫ সালের নতুন তথ্য এবং সংক্রমণের ভিন্ন পথ আবিষ্কার বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন