দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাজশাহীর পুঠিয়ার চারআনি রাজবংশের শেষ রাজা নরেশ নারায়ণের কথিত স্ত্রী কমর বেগমের ব্যবহৃত পালঙ্ক উদ্ধার করা হয়েছে। পুঠিয়ার মাছচাষি ইকবালুর বাশার খান ইলুর বাড়ি থেকে রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে পালঙ্কটি উদ্ধার করেন পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান।
লিয়াকত সালমান জানান, কমর বেগমের পালঙ্ক নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তা রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের নজরে আসে। তখন তিনি পালঙ্কটি উদ্ধারের নির্দেশ দেন। পরে উপজেলা প্রশাসন রবিবার দুপুরে ইলুর বাড়ি থেকে পালঙ্কটি উদ্ধারে অভিযান চালায়।
অভিযানে কমর বেগমের পালঙ্ক ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ইয়াকুব স্বর্ণকারের বাড়ি থেকে রাজবাড়ীর আরও একটি পুরোনো খাট ও একটি ড্রেসিং টেবিলের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ভোলানাথ দত্তের বাড়ি থেকে তিনটি ঝাড়বাতি উদ্ধার করা হয়।
ইউএনও লিয়াকত সালমান জানান, উদ্ধার করা এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন দর্শনার্থীদের জন্য পুঠিয়া রাজবাড়ীর জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে।
ইকবালুর বাসার খান ইলুর দাবি করেছেন, মামলা-মোকদ্দমা টানতে গিয়ে দৈন্যদশায় পড়েছিলেন কমর বেগমের মেয়ে রেজিনা জামাল। ১৯৯১ সালের দিকে তিনি ১০ হাজার টাকায় এই পালঙ্কটি তার কাছে বিক্রি করে দেন। তিন মাসের বেতনের টাকা জমিয়ে পালঙ্কটি কিনেছিলেন ইলুর স্কুলশিক্ষক বাবা আব্দুর রহমান খান। দীর্ঘদিন ধরে ইলু এই পালঙ্কে ঘুমাতেন।
চারআনি রাজবংশের শেষ পুরুষ নরেশ নারায়ণ নাটোরের রাজা জিতেন্দ্র নাথের দ্বিতীয় কন্যা সুরেশ্বরীকে বিয়ে করেছিলেন। সুরেশ্বরী দেবীর কোনো ছেলে ছিল না। এ কারণে সুরেশ্বরীর সঙ্গে নরেশ নারায়ণের সুসম্পর্ক ছিল না বলে জানা যায়।
নরেশ নারায়ণ প্রায়ই কলকাতায় যেতেন। সেখানে মুসলিম নারী কমর বেগমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। কথিত রয়েছে, পরে নরেশ নারায়ণ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাকে বিয়ে করেন। এতে ক্ষুব্দ হয়ে রাণী সুরেশ্বরী বিষ প্রয়োগ করে নরেশ নারায়ণকে হত্যা করেন। খবর পেয়ে কমর বেগম কলকাতা থেকে পুঠিয়ায় চলে আসেন এবং রাজপরিবারের দায়িত্ব নেন।
পুঠিয়ার চারআনি রাজবাড়িতে দীর্ঘদিন বসবাসের পর ১৯৮৭ সালে তিনি মারা যান তিনি। রবিবার দুপুরে পুঠিয়ার ইউএনও লিয়াকত সালমানের নেতৃত্বে রাজবাড়ীর এসব নিদর্শন উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলা অভিযানে পুঠিয়া রাজবাড়ীর কাস্টোডিয়ান হাফিজ উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র আসাদুল ইসলাম আসাদ উপস্থিত ছিলেন।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন