নরওয়ের জনপ্রিয় রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড শুক্রবার ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর দেশটির রাজা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হ্যারাল্ড নরওয়ের রাজতন্ত্রকে আধুনিক ও জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
নরওয়ের রাজপ্রাসাদ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘রাজা হ্যারাল্ড শুক্রবার ২৮ আগস্ট সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে অসলো ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।’
গত ১৭ আগস্ট তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রক্তে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ২০২৪ সালে স্থায়ী পেসমেকার বসানোর পর তিনি আনুষ্ঠানিক দায়িত্বও সীমিত করে আনেন। হ্যারাল্ডের মৃত্যুর পর তার ৫৩ বছর বয়সী ছেলে হাকন নরওয়ের নতুন রাজা হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করেছেন।
১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি বাবা রাজা পঞ্চম ওলাভের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন হ্যারাল্ড। তিন দশকের বেশি সময়ের রাজত্বকালে তিনি সংস্কারমুখী ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। রাজতন্ত্রকে আরও উন্মুক্ত ও সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করে তুলতে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ নেন।
জাতীয় সংকট ও শোকের মুহূর্তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন রাজা হ্যারাল্ড। বিশেষ করে ২০১১ সালে অসলো ও উতোয়া দ্বীপে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ৭৭ জন নিহত হওয়ার পর তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন এবং নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের পাশে দাঁড়ান।
সহনশীলতা ও বৈচিত্র্যের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন হ্যারাল্ড। পরিবেশ রক্ষার বিভিন্ন উদ্যোগেও তার সমর্থন ছিল। দক্ষ নাবিক হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন এবং তিনটি অলিম্পিক গেমসে নরওয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন। তার মৃত্যুর পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতা ও রাজপরিবারের পক্ষ থেকে শোক ও শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস বলেন, হ্যারাল্ড অবিচল নিষ্ঠার সঙ্গে নরওয়ের সেবা করেছেন এবং উষ্ণতা ও বিনয়ের মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তনের সময় দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি রানি সোনজা ও নরওয়ের রাজপরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে বলেন, পুরো দেশ শোকাহত। দীর্ঘদিনের সেবার জন্য হ্যারাল্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজা সবসময় নরওয়ের জনগণের প্রতি অটুট আস্থা দেখিয়েছেন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন হ্যারাল্ডকে একজন সত্যিকারের ইউরোপীয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি নরওয়ের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, নরওয়ে এমন একজন ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে, যিনি প্রজ্ঞা ও ঐক্যের প্রতীক ছিলেন।
রাজা হ্যারাল্ডের স্ত্রী রানি সোনজার সঙ্গে তার প্রায় ৫৮ বছরের দাম্পত্য জীবন ছিল। তিনি স্ত্রী রানি সোনজা, মেয়ে প্রিন্সেস মার্থা লুইস, ছেলে রাজা হাকন এবং ছয় নাতি-নাতনি রেখে গেছেন।
সূত্র: সানা নিউজ
ডিবিসি/এমএনকে