রাশিয়া তাদের নতুন সারমাট কৌশলগত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র চলতি বছরের শেষ নাগাদ মোতায়েন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের হাজার হাজার মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে পারমাণবিক হামলা চালাতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছিল রাশিয়া। বেশ কয়েক বছরের প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং বিলম্বের পর অবশেষে এটি মোতায়েনের চূড়ান্ত সময়সীমা ঘোষণা করা হলো।
মঙ্গলবার (১২ মে) টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে পুতিন দাবি করেন, সারমাট ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা বা ইয়েল্ড পশ্চিমা যেকোনো সমমানের অস্ত্রের চেয়ে চার গুণেরও বেশি। এর পাল্লা ৩৫,০০০ কিলোমিটার (২১,৭৫০ মাইল) ছাড়িয়ে গেছে। এটি বর্তমানে বিদ্যমান এবং ভবিষ্যতের যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার ক্ষমতা রাখে।
পুতিন রাশিয়ার পারমাণবিক বাহিনীর আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে প্রথম এই ক্ষেপণাস্ত্রের কথা ঘোষণা করেছিলেন। তবে পশ্চিমা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পুতিন প্রায়ই রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের অস্ত্রের সক্ষমতা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করেন।
উল্লেখ্য, সারমাট ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন পর্যায়ে অতীতে বেশ কিছু ব্যর্থতার নজির রয়েছে। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি সাইলোর (উৎক্ষেপণ কেন্দ্র) ভেতরেই বিস্ফোরিত হয়ে একটি বিশাল গর্তের সৃষ্টি করেছিল।
মঙ্গলবার রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার কর্নেল জেনারেল সের্গেই কারাকায়েভ ভিডিও লিংকের মাধ্যমে পুতিনকে জানান, সারমাটের একটি সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়েছে। কারাকায়েভ বলেন, সারমাট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের ফলে আমাদের কৌশলগত পারমাণবিক বাহিনীর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা শত্রুর লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস এবং কৌশলগত প্রতিরোধ নিশ্চিত করবে।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই পুতিন বারবার রাশিয়ার বিশাল পারমাণবিক ভাণ্ডারের কথা বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। পশ্চিমা দেশগুলো একে ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত রাখার একটি কৌশল বা হুঁশিয়ারি হিসেবেই দেখছে।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এসএফএল