আবারও মহাজাগতিক এক বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। আগামী ৩ মার্চ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় আকাশে দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’ বা রক্তিম চাঁদ। তবে এবারের গ্রহণটি অন্যান্য সময়ের চেয়ে কিছুটা ব্যতিক্রম হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কক্ষপথে চাঁদের বিশেষ অবস্থান এবং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরের প্রভাবে এবারের চাঁদে লাল আভার পাশাপাশি নীল রঙের এক অভিনব মিশ্রণ দেখা যেতে পারে।
পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে পৃথিবী অবস্থান করায় সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদে পৌঁছাতে পারে না। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল অনেকটা লেন্সের মতো কাজ করে সূর্যের আলোকে বাঁকিয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে পাঠিয়ে দেয়। বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে ‘রেলি স্ক্যাটারিং’ বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় নীল ও বেগুনি আলোর মতো ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোগুলো ছড়িয়ে যায়, কিন্তু লাল আলোর দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্য তুলনামূলক অক্ষত থেকে চাঁদে পৌঁছায়। ফলে চাঁদ লালচে বা রক্তিম আভা ধারণ করে।
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার তথ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই প্রথম চন্দ্রগ্রহণটি বিশেষ হওয়ার কারণ হলো চাঁদের গতিপথ। এবার চাঁদ পৃথিবীর ঘন অন্ধকার ছায়া বা ‘উমব্রা’র একেবারে ওপরের প্রান্ত ঘেঁষে অতিক্রম করবে। এর ফলে সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরের ধুলোময় অংশ দিয়ে না গিয়ে ওপরের স্তর বা স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হবে। ওজোন স্তর সমৃদ্ধ এই স্তরের মধ্য দিয়ে আলো যাওয়ার সময় ‘শ্যাপুই শোষণ ব্যান্ড’ নামক বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় ওজোন অণুগুলো লাল, কমলা ও হলুদ আলো শোষণ করে নেয়। ফলে ওজোন দ্বারা ছেঁকে যাওয়া নীল আভা এবার চাঁদের গায়ে গতানুগতিক লাল রঙের সাথে স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
আগামী ৩ মার্চ রাতের আকাশে বছরের এই প্রথম পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যবেক্ষকরা উপভোগ করতে পারবেন। ওজোন স্তরের বিশেষ প্রভাবে সৃষ্ট এই লাল ও নীল আভার সংমিশ্রণ এবারের ‘ব্লাড মুন’কে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বিরল ও আকর্ষণীয় ঘটনায় পরিণত করেছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডেই
ডিবিসি/টিবিএ