আন্তর্জাতিক, আমেরিকা

৪টি শব্দও লিখতে পারে না হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা, কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষক

Shovon Mondal

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি হাইস্কুলে শিক্ষার্থীদের পড়তে ও লিখতে না পারার করুণ দশা দেখে ক্লাসের মাঝেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এক শিক্ষক। হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের হুইটলি হাইস্কুলের শিক্ষক ড্যারিয়াস উইলিয়ামস নতুন শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় দিনেই এমন হতাশার সম্মুখীন হন।

তিনি জানান, তার ক্লাসের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা একটি সাধারণ লেখার কাজও সম্পন্ন করতে পারেনি, যা দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। গত মঙ্গলবার দুপুরের বিরতিতে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, তিন ঘণ্টার একটি ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের এমন অবস্থা দেখে তিনি আক্ষরিক অর্থেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।


নিউ এডুকেশন সিস্টেম (এনইএস) এবং ক্যারিয়ার অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন (সিটিই)-এর কর্মী উইলিয়ামস জানান, তিনি শিক্ষার্থীদের পড়ার জন্য দুটি অনুচ্ছেদ দিয়েছিলেন এবং একটি বাক্য সম্পূর্ণ করতে বলেছিলেন, যার উত্তর তিনি প্রায় দিয়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীরা মাত্র চারটি শব্দ দিয়ে বাক্যটি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি তাদের পুরো প্রেক্ষাপট বুঝিয়ে দিয়েছিলাম, এমনকি প্রশ্ন দেওয়ার আগে উত্তরও বলে দিয়েছিলাম, তারপরও তারা এটি করতে পারেনি। আমি বুঝতে পারছি না সমস্যাটা ঠিক কোথায়।’ ভিডিওতে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, এই শিক্ষার্থীরা মুখে কথা বলতে বা যুক্তি দিতে পারলেও, লিখিতভাবে তা প্রকাশ করতে একেবারেই অক্ষম। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও বাদামি বর্ণের তরুণ-তরুণীদের এই অবস্থার কথা বলতে গিয়ে তিনি ডুকরে কেঁদে ওঠেন।


ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই উইলিয়ামসের সমালোচনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের সাক্ষরতা নিয়ে কথা বলার বিষয়ে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সমালোচনার জবাবে পার্ট-টাইম কুকিং ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত এই শিক্ষক নিজের যোগ্যতার প্রমাণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, সম্প্রতি তিনি বার্কলি কলেজ অব মিউজিক থেকে দ্বিতীয় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে আমেরিকান কলেজ অব এডুকেশনে 'কারিকুলাম ও ইনস্ট্রাকশন' বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। টেক্সাস এডুকেশন এজেন্সিসহ তার অন্যান্য সনদের কথা উল্লেখ করে তিনি সমালোচকদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘যাদের আমার শিক্ষকতা নিয়ে সমস্যা আছে, তারা নিজেরা এসে এই দায়িত্ব নিক এবং প্রতিদিন ২২ জন শিক্ষার্থীর সামনে দাঁড়িয়ে ক্লাস নিয়ে দেখাক।’


শিক্ষকের এই হতাশার ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন নিউইয়র্ক সিটির প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান নিয়েও উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি জানা গেছে, গত শিক্ষাবর্ষে (২০২৫-২০২৬) নিউইয়র্ক সিটির তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই তাদের 'ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ আর্টস' (ইএলএ) পরীক্ষায় ফেল করেছে। শিক্ষা বিভাগের প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, তৃতীয় শ্রেণির ৫৭ শতাংশ, চতুর্থ শ্রেণির ৫২ শতাংশ এবং পঞ্চম শ্রেণির ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থীই এই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে, যা সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার একটি হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরে।


সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট


ডিবিসি/এসভিএন

আরও পড়ুন