জেলার সংবাদ, অপরাধ

৪ হত্যাকাণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি, দোষী হলে ছেলের শাস্তিও চান সিদ্ধার্থের বাবা

রংপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

রংপুরের একই পরিবারে চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ নামে যুবকের বাবা বিনয় দাস দাবি করেছেন, তার ছেলে মাদকাসক্তের সাথে জড়িত নয় এবং নির্দোষ। তবে নিকট প্রতিবেশী জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতির পরিবারের চার হত্যাকাণ্ডের বিচার চান তিনিও। জানান, পুলিশি তদন্ত করে ছেলের জবানবন্দিতে ঘটনার সাথে জড়িত প্রমাণিত হলে শাস্তি হোক ছেলের এ কথাও জানান তিনি।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুর নগরীর মাসুয়া পাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে কথা হলে এমন মন্তব্য করেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া যুবক সিদ্ধার্থের বাবা।

 

নিকট প্রতিবেশী হয়েও এমন ঘটনায় ছেলে জড়িত,‌ এমন প্রশ্নের জবাবে বিনয় দাস বলেন, ছেলে প্রতিদিন বাড়িতে থাকত। আমার কথা শুনত। এখন শুনছি নেশা খেয়ে চারজনকে হত্যা করেছে। বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারছি না। কবে থেকে ভিতরে ভিতরে সে নেশার জগতে প্রবেশ করল, বুঝতেই পারলাম না। তবে এলাকায় মাদকাসক্ত ছেলের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বলে স্বীকার করেন তিনি।


ছেলের গ্রেপ্তারের বর্ণনা দিয়ে বিনয় দাস বলেন, 'গতকাল ২২ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে গণপতির পরিবারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই বাড়িতে পুলিশসহ অনেক লোক জড়ো হয়। ভোর ৩টার দিকে মরদেহগুলো নিয়ে যায় পুলিশ।

 

এরপর ভোররাতে কয়েকজন পুলিশ এসে আমাকে বলে, এই বাড়িটি কার? আমি বলেছি, আমার। তখন পুলিশ জিজ্ঞেস করে, সিদ্ধার্থ কি আপনার ছেলে? আমি বলেছি, হ্যাঁ। বাসায় আছে কিনা জানতে চাইলে বলেছি, পাশেই ওর কাকুর বাড়ি, সেখানে ঘুমিয়েছে। তখন আমাকে নিয়ে পুলিশ সেই বাড়িতে যায় এবং ঘুম থেকে ডেকে তুলে ওকে বলে, মুগ্ধের বাড়ি চেনো কিনা? তখন পুলিশ ওকে মুগ্ধের বাড়ি নিয়ে যায়। এরপর গাড়িতে করে নিয়ে যায়। তখন কিছুই বুঝিনি। এখন শুনছি, সে আর মুগ্ধ নামের আরেক যুবক গণপতির এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

 

কিন্তু আমার প্রশ্ন, এই চারটি মানুষকে দুজন যুবক কীভাবে হত্যা করতে পারে? এর সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, বা এটির মধ্যে রহস্য আছে কিনা, তা তদন্ত করে উদঘাটন করা দরকার।' তবে ছেলে দোষী হলে শাস্তি মেনে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন বিনয়।


ঘটনার দিন ছেলে বাড়িতে রাত্রিযাপন করেছিল কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় বলেন, "মাঝে মাঝে শুক্রবার করে ছেলে বিভিন্ন জায়গায় ফুটবল, ক্রিকেট খেলতে যায়। তাই সেদিন রাতে ভাত খেয়ে ছেলে বলেছিল, পাশ্ববর্তী এক বন্ধুর বাড়িতে থাকবে এবং সকালে উঠে সেখান থেকে ওই বন্ধুসহ খেলতে যাবে।"

 

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাত ১১টার দিকে নগরীর মাসুয়া পাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার স্ত্রী ও স্নাতক সম্পন্ন করা মেয়ে ও প্রাথমিকের পড়ুয়া ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

পরে নিহত গণপতির বড় ভাই গুপিনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে একটি অজ্ঞাত হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য নিশ্চিত করেন মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। জানান, গভীর রাতে গণপতির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিল সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামের দুই যুবক। বাধা দেওয়ায় একে একে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে গণপতিসহ তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে।

 

ডিবিসি/ আরএফই

আরও পড়ুন