উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ইংলিশ চ্যানেলে অবস্থিত ছবির মতো সুন্দর দ্বীপ সার্ক। ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের অংশ হলেও নিজস্ব সরকার দ্বারা পরিচালিত এই দ্বীপের জনসংখ্যা ৫০০ জনেরও কম। তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই দ্বীপের বাসিন্দাদের মনে এখন শান্তি নেই, কারণ তাদেরকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুসারে, গত দুই সপ্তাহে দ্বীপটিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১.১৩ পাউন্ডে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০০ টাকা) পৌঁছেছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে বিশ্বে সর্বোচ্চ।
চ্যানেল আইল্যান্ডের অন্তর্গত সার্কের নিজস্ব সরকার এবং আইনসভা রয়েছে, যা ‘চিফ প্লিস’ নামে পরিচিত। দ্বীপটির একমাত্র বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘সার্ক ইলেকট্রিসিটি লিমিটেড’-এর সঙ্গে সরকারের বিরোধের কারণেই এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।
এসইএল-এর মালিক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যালান উইটনি-প্রাইস জানিয়েছেন, দ্বীপের সরকার বা চিফ প্লিস তার কোম্পানিটিকে বাধ্যতামূলকভাবে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব নিয়ে সম্ভাব্য আইনি লড়াইয়ের খরচ মেটানোর জন্যই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।
ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির প্রভাষক ড. দিলীপ জেনা এই দামকে তার দেখা সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করেছেন। কেমব্রিজ এনার্জি ইকোনমিস্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা টম মিলারও একমত যে, এটি বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ বিদ্যুতের দাম। তিনি বলেন, 'বিশ্বজুড়ে অনেক উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দেখার পরেও আমি এই দাম দেখে অত্যন্ত অবাক হয়েছি।'
মাত্র ৫০০ জন বাসিন্দা হওয়ায় এখানে ‘ইকোনমি অফ স্কেল’ বা বৃহৎ উৎপাদনের মাধ্যমে খরচ কমানোর কোনো সুযোগ নেই। পাশাপাশি, গত দুই দশকে বিদ্যুৎ গ্রিডে তেমন কোনো বিনিয়োগ না হওয়ায় ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এই ডিজেল প্রথমে গুর্নসি দ্বীপে এবং সেখান থেকে জাহাজে করে সার্কে আনতে হয়, যা পরিবহন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
এই পরিস্থিতি দ্বীপের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সম্প্রতি দ্বীপে আসা একজন অভিবাসী বলেন, 'এমন একটি প্রকাশ্য সার্কাস চলতে থাকলে কোনো তরুণ পরিবার কেন সার্কে জীবন গড়ার জন্য বিনিয়োগ করবে?'
ডিবিসি/এমইউএ