আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দল কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর মতো বড় রাজনৈতিক দলও রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা আনুপাতিক হারে মাত্র চার শতাংশ। টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ আশানুরূপভাবে বাড়েনি। ২০০৮ সালে নারী প্রার্থী ছিলেন ৫৫ জন (৩.৫১%), ২০১৪ সালে ৩০ জন (৫.৫৫%) এবং ২০১৮ সালে ৭৩ জন। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে রেকর্ড ভেঙে ৯৪ জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যা ছিল ৫.১৫ শতাংশ।
বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর হার কমে যাওয়াকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। সাবেক নারী বিষয়ক সংস্কার কমিটির প্রধান শিরীন হক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, তাদের কোনো সুপারিশই গ্রহণ করা হয়নি। অধিকারকর্মী শাহীন আনাম মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলো বৈষম্য বিলোপের কথা বললেও কার্যত নারীদের সাথে প্রতারণা করেছে।
বিশ্লেষক ও অধিকারকর্মীদের মতে, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে রাজনীতির মূলধারা থেকে দূরে রেখে গণতন্ত্রের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
ধারাবাহিকভাবে নারী প্রার্থী বৃদ্ধির পরিবর্তে রাজনীতির মাঠ থেকে নারীদের বাদ দেয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ডিবিসি/এনএসএফ