ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গত ৫ আগস্ট থেকে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলায় ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে অনেক সাধারণ ও নিরীহ মানুষকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানান, সুবিধাবাদী চক্রের দায়ের করা এসব হয়রানিমূলক মামলার বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এর সঠিক তথ্য বের করা হবে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর এবং কেউ যেন অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একইসঙ্গে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক আরও ১ হাজার ২০২টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে একইভাবে ১ হাজার ৬টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, হত্যা, মাদক, অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের মামলাগুলো এই প্রত্যাহারের আওতার বাইরে থাকবে। কেবল রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে করা মামলাগুলোই এখানে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
মামলা প্রত্যাহারের এই প্রক্রিয়ায় যেন কোনো ধরনের অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়েও সরকার সচেষ্ট রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রত্যাহারযোগ্য মামলাগুলো সত্যিকার অর্থেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। এ জন্য একটি বিশেষ যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হবে এবং আগামী এক-দুদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ডিবিসি/পিআরএএন