ফার্স নিউজ এজেন্সির দেওয়া সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ছয় দিনে এই পাঁচটি শহরে আয়োজিত জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে ৪ কোটি ১০ লাখ থেকে ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন, যা রেকর্ড ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জানাজার সমাবেশ।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে, ইরান এবং প্রতিরোধ ফ্রন্ট তাদের শহিদ নেতার প্রদর্শিত পথেই অবিচল থাকবে। একই সাথে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত বিচার ও প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরান ও ইরাকজুড়ে আয়োজিত অভূতপূর্ব শোকমিছিল ও জানাজার প্রশংসা করে শুক্রবার (১০ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি প্রধান এই মন্তব্য করেন।
আইআরজিসি প্রধান বলেন, ইসলামের বিপ্লবের মহান নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেই-এর জন্য সপ্তাহব্যাপী চলা এই নজিরবিহীন বিদায় অনুষ্ঠান প্রমাণ করে যে, জনগণের সাথে নেতৃত্বের বন্ধন কতটা গভীর। তিনি উল্লেখ করেন, বেলায়েত-ই-ফকিহ এর অর্থ হলো-৪৭ বছর রাষ্ট্র পরিচালনার পরও বিদায়বেলায় পুরো জাতি আপনার জন্য অশ্রুর মহাসমুদ্র হয়ে রাজপথে নেমে আসবে।
ইরানি জাতিকে দূরদর্শী, স্থিতিস্থাপক ও অবিচল হিসেবে বর্ণনা করে তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আইআরজিসি প্রধান। একই সাথে অত্যন্ত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার সাথে এই বিশাল সমাগম সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আয়োজকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার প্রশংসা করেন তিনি।
পবিত্র মাশহাদ নগরীতে সমাহিত করার মাধ্যমে এই শোকানুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। এর আগে তেহরান, কোম, নাজাফ এবং কারবালাতেও লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। গত বৃহস্পতিবার মাশহাদের রাস্তায় লাখ লাখ শোকাতুর মানুষ সমবেত হন। সেখানে শহিদ নেতা এবং তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহ নিয়ে শোকমিছিল করার পর ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজারে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ইরানের অভ্যন্তরীণ জনগণের পাশাপাশি বিশ্বের ডজনখানেক দেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরাও অংশ নেন।
আইআরজিসি প্রধান বলেন, এই বিশাল জনসমাগম শহিদ নেতার আদর্শের প্রতি এবং ইসলামি বিপ্লবের প্রতি জনগণের আনুগত্যকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে। ইমাম হোসেন (আ.)-এর লাল পতাকার নিচে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অহংকার ও কুফর-এর বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহর জেগে ওঠার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ ছিল এই সমাবেশ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমেরিকার অপরাধী নেতৃবৃন্দ এবং ইসলামি বিপ্লব ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের শত্রুদের জানা উচিত যে, এই কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তারা কখনই এই ঐশ্বরিক আলো নিভিয়ে দিতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, শহিদ নেতার রক্ত পুরো মুসলিম উম্মাহর মধ্যে জাগরণ, মর্যাদা, শক্তি ও সংহতির এক প্রবহমান উৎস হয়ে উঠেছে। এই রক্ত শত্রুদের আরও পরাজয়, বিচ্ছিন্নতা ও অনুশোচনার দিকে ঠেলে দেবে। শত্রুরা এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।
বিবৃতির শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই কাপুরুষোচিত অপরাধের নির্দেশদাতা, পরিকল্পনাকারী এবং সহায়তাকারীদের শাস্তি দেওয়া একটি নিশ্চিত, বৈধ এবং অবিস্মরণীয় দাবি। যতক্ষণ না পর্যন্ত পূর্ণ বিচার অর্জিত হচ্ছে এবং অপরাধী, বিশেষ করে শিশু-হত্যাকারী মার্কিন বাহিনীকে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই বিচারের দাবি প্রতিরোধ ফ্রন্টের ঐতিহাসিক স্মৃতি থেকে মুছে যাবে না।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর যৌথ উদ্যোগে নেতার বাসভবনে পরিচালিত এক সন্ত্রাসী হামলায় আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির এবং তার পরিবারের সদস্যরা শহিদ হন।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল