বিবিধ

৬ বছরের সাধনায় ডিম-ভুট্টার আটার কাগজে বিশাল কোরআন লিখলেন ইরাকি শিল্পী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

বুধবার ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৬:০৮ পূর্বাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দীর্ঘ ৬ বছরের কঠোর সাধনা ও শ্রমের পর পবিত্র কোরআনের এক বিশাল ও অনন্য হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছেন ইরাকি ক্যালিগ্রাফার আলি জামান। চারুশিল্পের এই বিস্ময়কর নিদর্শনটির একেকটি পৃষ্ঠা লম্বায় ১৩ ফুট বা ৪ মিটার।

৫৪ বছর বয়সী এই শিল্পী ইস্তাম্বুলের মিহরিমা সুলতান মসজিদের একটি কক্ষে বসে এই মহৎ কাজটি সম্পন্ন করেছেন। তিনি জানান, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে পেরে তিনি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ এবং গর্ববোধ করছেন।

 

এই কোরআন শরিফটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর কাগজ। এটি সাধারণ কোনো কাগজে লেখা হয়নি। আলি জামানের জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে ডিম, ভুট্টার আটা (কর্ন স্টার্চ) এবং ফিটকিরি বা অ্যালামের মিশ্রণ ব্যবহার করে ভারী টেক্সচারের এই কাগজ বা পার্চমেন্ট তৈরি করা হয়েছে।

 

সম্পূর্ণ কোরআনটি ৩০২টি দ্বি-পার্শ্বযুক্ত স্ক্রল বা গোটানো কাগজে লিপিবদ্ধ। প্রতিটি স্ক্রল লম্বায় ৪ মিটার (১৩ ফুট) এবং চওড়ায় ১.৫ মিটার। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো স্বীকৃতি মেলেনি, তবুও এটিকে বিশ্বের বৃহত্তম হাতে লেখা কোরআন হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।

 

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় রানিয়া শহরে জন্মগ্রহণকারী আলি জামান ২০১৭ সালে পরিবার নিয়ে তুরস্কে পাড়ি জমান। নিজ দেশের চেয়ে তুরস্কে ক্যালিগ্রাফি শিল্পের কদর বেশি হওয়ায় তিনি ইস্তাম্বুলকেই তার স্বপ্নের প্রজেক্টের জন্য বেছে নেন। গত ৬ বছর ধরে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে তিনি এই ক্যালিগ্রাফির কাজ করেছেন।

 

বর্তমানে পাণ্ডুলিপিটি ধুলোবালি ও আর্দ্রতা থেকে রক্ষার্থে মসজিদের ভেতরেই ঢেকে রাখা হয়েছে। আলি জামানের ইচ্ছা, তার এই শিল্পকর্মটি কোনো জাদুঘর বা ক্যালিগ্রাফির জন্য বিশেষায়িত কোনো স্থানে স্থান পাবে, যেখানে দর্শনার্থীরা এর যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারবেন।

 

তথ্যসূত্র এপি নিউজ

 

ডিবিসি/এমইউএ

আরও পড়ুন