কুড়িগ্রাম সীমান্তে খেয়ে না খেয়ে কাটছে দুই শিশুর সময়

৬ মাসের শিশুসহ ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন চেষ্টার শিকার হয়ে দুই শিশুসহ ৬ জন চরম অমানবিক পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন। প্রচন্ড রোদ আর বৃষ্টির মধ্যে মাথার ওপর সামান্য প্লাস্টিক টাঙিয়ে গত তিন দিন ধরে সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান করছেন তারা। এদের মধ্যে একজন অসহায় নারী, ৩ জন পুরুষ এবং আড়াই বছর ও মাত্র ৬ মাস বয়সী ২ শিশু রয়েছে। কোনো দেশই এখন পর্যন্ত এই হতভাগ্যদের দায় স্বীকার করেনি।

সরেজমিনে গয়টাপাড়া সীমান্তের ১০৬০ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের সংলগ্ন ফাঁকা জায়গায় গিয়ে দেখা যায়, মাথার ওপর সামান্য প্লাস্টিকের ছাউনি দিয়ে ৬ মাসের দুধের শিশুকে কোলে নিয়ে বসে আছেন এক দম্পতি। পাশে রয়েছে তাদের আড়াই থেকে তিন বছর বয়সী আরেক সন্তান ও অন্য দুই যুবক। একদিকে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া ও ঝালুর চর বিএসএফ ক্যাম্প, অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বেশ দূরত্বে একটি খাল। জনমানবহীন এই প্রান্তরে তাদের ঘিরে একদিকে বিএসএফ এবং অন্যদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অস্ত্র হাতে পাহারা দিচ্ছে, যাতে কেউ কোনো দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে।


স্থানীয়রা জানান, টানা দুই দিন দুই রাত খোলা আকাশের নিচে থাকার পর গতকাল সামান্য একটু প্লাস্টিক টাঙানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে খাওয়া, গোসল কিংবা স্যানিটেশনের কোনো সুব্যবস্থা নেই। বিএসএফ মাঝেমধ্যে সামান্য খাবার দিচ্ছে, আর উৎসুক গ্রামবাসী সীমান্ত পার থেকে দু-এক প্যাকেট বিস্কুট ছুড়ে দিচ্ছেন। এভাবেই খেয়ে না খেয়ে কাটছে তাদের বন্দি সময়।


সীমান্ত সূত্র জানায়, গত রবিবার (১৪ জুন) সকাল ৭টার দিকে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে আরও ৩ যুবককে বাংলাদেশি সন্দেহে পুশইন করার চেষ্টা চালায় বিএসএফ। কাঁটাতারের গেট খুলে তাদের জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানোর সময় বিজিবি ও স্থানীয়রা টের পেয়ে তীব্র বাধা দেয়। বিজিবির অনড় অবস্থানের মুখে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশের মাটিতে ঢোকাতে ব্যর্থ হয়। পরে তারা ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ গজের ভেতরে, সীমান্তের শূন্য রেখা লাগোয়া ভারতের অংশে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।


অবুঝ শিশু দুটির ওপর এমন অমানবিক আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সীমান্তে ভিড় করা শত শত মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ৬ মাসের এই শিশুটি তো কোনো অপরাধ করেনি। তাহলে কেন তাকে রোদ-বৃষ্টিতে এভাবে পুড়তে হচ্ছে? এটা মেনে নেওয়া যায় না। তারা অনতিবিলম্বে দুই দেশের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান, অন্যথায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


পুশইনের এই ঘটনার পর থেকে গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে বিজিবি। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে সীমান্ত জুড়ে এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই অসহায় পরিবারটির বিষয়ে কোনো কূটনৈতিক বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসেনি।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন