সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই-নির্মিত ছবি ও কনটেন্টকে হাতিয়ার করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি লড়াই।
ঘটনার শুরু জনপ্রিয় এক এআই ট্রেন্ডকে ঘিরে। চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে ছবি এমনভাবে সম্পাদনা করা হচ্ছে, যেন সেগুলো ১৯৮০’র দশকে ফিল্ম ক্যামেরায় তোলা। সাধারণ ফিল্টারের মতো শুধু রঙের পরিবর্তন নয়, এআই দিয়ে ছবির মুখাবয়ব ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে দেওয়া যাচ্ছে।
এই ট্রেন্ডে প্রথমদিকে যোগ দেন বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ও পীযূষ গোয়েল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রিজিজু লেখেন, ‘সবাই কেন ৮০’র দশকের আবহে ফিরে যাচ্ছে? আমিও ৮০’র দশকের নস্টালজিয়ায় ফিরতে বাধ্য হলাম।’ পীযূষ গোয়েলও স্মাইলি দিয়ে লেখেন, ‘৮০’র দশকের ট্রেন্ডে মেতে উঠেছি।’
তবে খুব বেশি সময় লাগেনি ট্রেন্ডটি রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠতে। কেরালা কংগ্রেস একটি এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করে। ছবিতে দেখা যায়, মারুতি সুজুকি ওমনি গাড়ির সামনের আসনে বসে আছেন মাথা ন্যাড়া এক ব্যক্তি। ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘৮০’র দশকের গুজরাটের একটি রাস্তা।’
ছবিটির পাশে থাকা একটি দেয়ালের পোস্টারে হিন্দিতে লেখা ছিল, ‘দয়া করে হাসুন, আপনি দিল্লিতে আছেন।’ কংগ্রেসের পোস্টে অনেকেই গুজরাটের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
ছবিতে মারুতি ওমনিকে বেছে নেওয়ার মধ্যেও ছিল আরেকটি ইঙ্গিত। ১৯৮৪ সালে ভারতের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির তৈরি এই ভ্যানটি বলিউডের বিভিন্ন সিনেমায় গুণ্ডা ও খলনায়কদের ব্যবহৃত গাড়ি হিসেবে পরিচিতি পায়। একপর্যায়ে এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘কিডন্যাপিং ভ্যান’ নামেও পরিচিত হয়ে ওঠে।
এরপর পাল্টা জবাব দেয় বিজেপির তেলেঙ্গানা ইউনিট। কংগ্রেসের ওমনি গাড়ির ছবিটি পুনঃপোস্ট করে বিজেপি আরেকটি এআই-নির্মিত ছবি প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, লাল পোশাক পরা এক নারী একটি বারে টেবিলের ওপর নাচছেন। পেছনে কাচের ক্যাবিনেটে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মদের বোতল। কয়েকজন নারী-পুরুষ দাঁড়িয়ে সেই নাচ দেখছেন।
ছবিটির বর্ণনায় বিজেপি লেখে, ‘লুসিয়ানা, ইতালি। ১৯৭০-এর দশকের কোনো এক সময়।’ সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও পোস্টটি ইতালির ওই শহরের দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর জন্ম।
ডিবিসি/ আরএফই