আন্তর্জাতিক, ভারত

৮ দিন ধরে দাবানলে পুড়ছে ভারতের উত্তরাখণ্ডের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

গত ৮ দিন ধরে বিধ্বংসী দাবানলে পুড়ছে ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় অবস্থিত 'ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স' এর নিকটবর্তী বনাঞ্চল।

গত ৯ জানুয়ারি সকাল থেকে শুরু হওয়া এই আগুন নেভানো সম্ভব না হওয়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে  আকাশপথে একটি বিশেষ জরিপ চালায় বনবিভাগ। জরিপের পর জ্যেষ্ঠ বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আগুনটি এখনো মূলত ভূপৃষ্ঠেই (Surface Fire) সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং বনের খুব গভীরে বা গাছের উপরিভাগে ছড়িয়ে পড়েনি।

 

গত ৯ জানুয়ারি সকাল ১০টা ১০ মিনিটে নন্দা দেবী বন বিভাগের আউলি ওয়্যারলেস স্টেশনে কর্মরত কর্মীরা গোবিন্দঘাটের বিপরীতে অলকানন্দা নদীর নিকটবর্তী বনাঞ্চলে প্রথম ধোঁয়ার কুণ্ডলী লক্ষ্য করেন। চামোলি জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌরব কুমার, উত্তরাখণ্ডের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বিনোদ কুমার সুমনকে লেখা এক চিঠিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, প্রায় ১১,৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত নন্দা দেবী জাতীয় উদ্যানের ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স রেঞ্জের আওতাধীন পাইনখণ্ডা জঙ্গলটিই মূলত এই অগ্নিকাণ্ডের শিকার।

 

রাজ্যের প্রধান বন সংরক্ষক সুশান্ত পট্টনায়ক আকাশপথে জরিপ চালানোর পর বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে আগুনের ব্যাপ্তি খুব বেশি বিস্তৃত বা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এটি ভূপৃষ্ঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে দুশ্চিন্তার বিষয় হলো স্থানটির ভৌগোলিক অবস্থান। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় আমাদের কর্মীরা সেখানে পৌঁছাতে পারছেন না এবং আগুন নেভানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও জানান যে, মাঠপর্যায় থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আকাশপথের জরিপের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আগুন নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের সাহায্য নেওয়া হবে কি না, তাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, এই অসময়ে এমন দাবানলের কারণ হিসেবে আবহাওয়ার পরিবর্তনকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারত আবহাওয়া বিভাগের (আইএমডি) দেরাদুনের পরিচালক সিএস তোমারে মতে, শীতকালীন তুষারপাত এবং বৃষ্টিপাতের অভাবই এই ধরনের ঘটনা বৃদ্ধির মূল কারণ। তিনি বলেন, ডিসেম্বর থেকে পশ্চিমা ঝঞ্ঝার ফ্রিকোয়েন্সি বা আনাগোনা স্বাভাবিক থাকলেও এর তীব্রতা বা ইনটেনসিটি ছিল বেশ দুর্বল। এই সিস্টেমগুলি খুব সীমিত পরিমাণে আর্দ্রতা বহন করছে এবং মূলত উত্তরমুখী গতিপথ অনুসরণ করছে। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মীরের মতো উচ্চ অক্ষাংশ অঞ্চলে কিছু তুষারপাত ও বৃষ্টিপাত হলেও, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে আবহাওয়া কার্যকলাপ তুলনামূলকভাবে খুবই দুর্বল।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে উত্তরাখণ্ডে স্বাভাবিক ১.৩ মিমি বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। এমনকি অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গগুলোও এবার তুষারহীন অবস্থায় রয়েছে। তবে আশার বাণী শুনিয়ে জনাব তোমার বলেন, জানুয়ারি মাসে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে এবং বৃষ্টিপাত ও তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা দাবানল প্রশমনে সহায়ক হবে।

 

এমতাবস্থায়, রাজ্যের বনমন্ত্রী সুবোধ উনিয়াল চামোলি অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্গম এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষা করাই এখন প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন