নব্বইয়ের দশক বা তারও আগে, বরিশালবাসীর কাছে একটিই নাম ছিল আস্থার প্রতীক- 'ছামাদ' সদরঘাটের ব্যস্ততম ঘাটে তখন এই একটি লঞ্চের জন্যই অপেক্ষা করত হাজারো যাত্রী। প্রবাদ ছিল- 'আগে গেলে ছামাদে, না গেলে জামাতে' । আজ সেই প্রতাপ নেই, নেই সেই গর্জন, কিন্তু মানুষের স্মৃতিতে এমভি ছামাদ আজও এক অপরাজেয় জলদানব।
এমভি ছামাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি সাধারণ মালবাহী জাহাজ হিসেবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমানের গোলার আঘাতে এটি কীর্তনখোলা নদীতে ডুবে গিয়েছিল। যুদ্ধের পর বরিশালের এক ব্যবসায়ী এটি উদ্ধার করেন এবং পরবর্তীতে কুমিল্লার দাউদকান্দির সাবেক এমপি মুন্সী আব্দুল আলী এটি কিনে লঞ্চে রূপান্তরিত করেন।
বরিশালের প্রবীণদের কাছে জানা যায়, সে সময় ঢাকা থেকে বরিশাল পৌঁছাতে ছামাদই ছিল সবচেয়ে দ্রুত। রাত ১টা বা ২টার মধ্যে আমরা বরিশাল পৌঁছে যেতো। তখনকার দিনে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় বিলাসিতা।
১৯৮৮ সালে বরিশালের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহন মিয়া এটি কিনে নেন। আধুনিকতা আর নিরাপত্তার দিক থেকে ছামাদ ছিল অনন্য। কিন্তু ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের সেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সব ইতিহাস ওলটপালট করে দেয় । কীর্তনখোলা নদীতে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের মাঝেই সলিল সমাধি ঘটে এই এমভি ছামাদের।
বর্তমান সময়ে বড় বড় সব আধুনিক লঞ্চের ভীড়ে ছামাদ হয়তো হারিয়ে গেছে, কিন্তু বরিশাল-ঢাকা নৌপথের ঐতিহ্যের পাতায় এই নামটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। একটি লঞ্চ কীভাবে একটি জনপদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠতে পারে, তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ এমভি ছামাদ।
ডিবিসি/ এইচএপি