খেলাধুলা, ফুটবল

‘আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা বিশ্বাসঘাতক, বিশ্বকাপটা স্পেনকে দিয়ে দিয়েছে’

স্পোর্টস ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হতাশা কতটা তীব্র ছিল, তারই এক মজার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন জাতীয় দলের ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মেদিনা। নিজের পরিচয় গোপন রেখে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এক আর্জেন্টাইন সমর্থকের মুখে শুনেছেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে ক্ষোভ-অভিযোগ। অথচ যাকে সামনে বসিয়ে এতক্ষণ আর্জেন্টিনা দলকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলছিলেন ওই ব্যক্তি, তিনি যে জাতীয় দলেরই একজন খেলোয়াড় তা টের পাননি।

ঘটনাটি ঘটে বিশ্বকাপ ফাইনালের কয়েক দিন পর। স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হারানোর পর নিজের এলাকায় ফিরেছিলেন মেদিনা। সেখানে একটি গাড়ির গ্যারেজে গিয়ে ঘটে এই অদ্ভুত ঘটনা। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস মেদিনার বক্তব্যের বরাত দিয়ে ঘটনাটি প্রকাশ করেছে।

 

গ্যারেজে পৌঁছালে মেদিনাকে মাতের কাপ দিয়ে অভ্যর্থনা জানান সেখানকার মালিক। কাপটিতে ছিল আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের তিনটি তারকার প্রতীক। সেটি দেখেই ওই ব্যক্তির মনে পড়ে যায় বিশ্বকাপের ফাইনালের কথা। এরপরই শুরু হয় জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সমালোচনা।

 

মেদিনার ভাষ্য, গ্যারেজ মালিক বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন। তার দাবি, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা নাকি ইচ্ছা করেই স্পেনের কাছে ফাইনাল হেরে গেছেন। এমনকি ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেও আখ্যা দেন।

 

সবচেয়ে মজার ব্যাপার, যার সামনে বসে তিনি এসব কথা বলছিলেন, সেই মেদিনাই ছিলেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ডিফেন্ডার। কিন্তু নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে চুপচাপ পুরো ঘটনা উপভোগ করছিলেন মেদিনা। বরং ওই সমর্থককে আরও কথা বলতে উৎসাহ দেন তিনি। একপর্যায়ে জানতে চান, কেন তার মনে হচ্ছে আর্জেন্টিনা ইচ্ছা করেই ম্যাচটি ছেড়ে দিয়েছে।

 

এরপরই ঘটে আসল ঘটনা।

গ্যারেজের পাশের একটি বেকারি থেকে বেরিয়ে আসা এক প্রতিবেশী মেদিনাকে চিনে ফেলেন। পরে তিনি গ্যারেজ মালিকের সঙ্গে থাকা এক নারীকে বিষয়টি জানান। তখনই ওই নারী বুঝতে পারেন, এতক্ষণ যার সামনে বসে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সমালোচনা করা হচ্ছিল, সেই ব্যক্তি আসলে আর্জেন্টিনা দলেরই একজন ফুটবলার।

 

বিষয়টি জানার পর ওই নারী প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে যান। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে কাঁদতেও শুরু করেন তিনি। দূর থেকে মেদিনা তাকে কাঁদতে দেখছিলেন। তার মনে হচ্ছিল, ওই নারী হয়তো ভাবছিলেন—জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড় কীভাবে এতক্ষণ চুপচাপ বসে তাদের সব কথা শুনলেন!

পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে উঠলে শেষ পর্যন্ত মেদিনাই তার কাছে এগিয়ে যান। তবে কোনো রাগ বা বিরক্তি প্রকাশ করেননি তিনি। বরং ওই নারীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

 

মেদিনা তাকে বোঝান, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা কোনোভাবেই ম্যাচ ছেড়ে দেননি। তারা বরং বিশ্বকাপ জেতার লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছিলেন। এরপর দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন।

 

মজার এই ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই নয়, ফাইনালের পর আর্জেন্টাইন সমর্থকদের হতাশার গভীরতাও তুলে ধরে। স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় তারা।

 

ফাইনালে অবশ্য শুরু থেকে মাঠে ছিলেন না মেদিনা। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। এরপর ম্যাচের বাকি সময় ও অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণ সামলান এই ডিফেন্ডার।

 

ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নানা গুঞ্জন ও ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব। দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, খেলোয়াড়দের সম্পর্ক ও ম্যাচের ফল নিয়ে নানা ধরনের দাবি সামনে আসে। তবে মেদিনা সমর্থকদের এসব গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান। দেশে ফিরে তার স্পষ্ট বার্তা ছিল ‘বাজে কথা বিশ্বাস করবেন না।’ একই সঙ্গে দলের ভেতরের পরিবেশ ভালো ছিল বলেও জানান তিনি।

 

ডিবিসি/ আরএফই

আরও পড়ুন