আন্তর্জাতিক, ভারত

‘এটা কেবল শুরু মাত্র, ককরোচ পার্টির এখনও অনেক পথ বাকি’: সকালে এক্সে দিপকের পোস্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সরকারের অন্যান্য দাবি মেনে নেওয়ার পর, 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র জন্য এটি এক নতুন ভোরের সূচনা। দেশব্যাপী এই বিশাল ছাত্র আন্দোলনের ৩০ বছর বয়সী প্রধান মুখ অভিজিৎ দিপকে দীর্ঘ সংগ্রামের পর এখন বিশ্রামের সুযোগ নিচ্ছেন।

পরবর্তীতে কী ঘটবে তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ ছাড়াই তিনি এখন কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। আজ সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে দিপকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই ঐতিহাসিক জয় কেবল সূচনা মাত্র এবং তাদের আসল পথচলা এখনও বাকি।

 

ভিডিও বার্তায় দিপকেকে বেশ স্বচ্ছন্দ দেখাচ্ছিল। ৩৭ দিনের এই টানা প্রতিবাদকে তিনি ‘সত্যিই, সত্যিই কঠিন’ বলে উল্লেখ করে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।" তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া অনুসারীদের মনে করিয়ে দেন যে, ‘এটি কেবল শুরু মাত্র। ককরোচ জনতা পার্টির এখনও অনেক পথ হাঁটা বাকি।’ শারীরিক অসুস্থতার ধকল শেষে দীপকের এই বার্তা আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

 

চলতি বছরের মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের ব্যঙ্গাত্মক জবাব হিসেবে অভিজিৎ দিপকে 'ককরোচ জনতা পার্টি' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা কেবল কৌতুকে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি একটি বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং প্রায় ৭০ দিনের মধ্যে দেশের 'জেন জি' (Gen Z) প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ করে। হাজার হাজার তরুণ-তরুণী নিজেদের 'ককরোচ' পরিচয় দিয়ে রাজধানীর ক্ষমতার করিডোর সংলগ্ন প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তর দখল করে নেয় এবং তাদের ‘ইনকিলাব’ ধ্বনিতে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে।

 

নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষার্থীদের আত্মহত্যার জন্য ছাত্রছাত্রী ও তরুণ বিক্ষোভকারীরা সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীকে দায়ী করে তার পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছিল। সরকার সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করায় প্রতি মুহূর্তে সেখানে আরও সমর্থক এসে জমায়েত হচ্ছিলেন। 

 

অবশেষে গতকাল ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পাশাপাশি, সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং প্রধান বিচারপতি আন্দোলনকারীদের প্রতি তার আগের মন্তব্য প্রত্যাহার করে নেন।

 

ভিডিও বার্তায় দিপকে স্মরণ করেন যে, সফলতার এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। আন্দোলনের শেষ দিনে টাইফয়েডে আক্রান্ত ও তীব্র জ্বরে ভোগার কারণে গতকাল যন্তর মন্তরে উপস্থিত থেকে সবাইকে সরাসরি ধন্যবাদ জানাতে না পারায় তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। 

 

যারা ৩৭ দিন ধরে যন্তর মন্তরে তাদের পাশে ছিলেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সবশেষে তিনি সমালোচকদেরও ধন্যবাদ জানান। কারণ তার মতে, সমালোচকদের তোলা যৌক্তিক প্রশ্ন তাকে এবং তার দলকে আরও উন্নত হতে সাহায্য করেছে এবং মূলত সে কারণেই তারা আজ সফল হতে পেরেছেন।

 

সূত্র: এনডিটিভি

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন