বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

‘এত রাতে রাস্তায় ঘুরছেন কেন?’ জেরা শেষে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি

কক্সবাজার প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

‘এত রাতে রাস্তায় ঘুরছেন কেন?’গভীর রাতে এমন প্রশ্ন তুলে পুলিশ পরিচয়ে লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারের পেকুয়ায়। বসতবাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন লুট করেছে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। এমনকি প্রমাণ নষ্ট করতে যাওয়ার সময় বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্কও খুলে নিয়ে গেছে তারা।

রোববার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে পেকুয়া উপজেলার আব্দুল হামিদ সিকদারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রেজাউল করিম ওই এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

 

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, রাতে ওই এলাকায় সচরাচর তেমন যানবাহনের আনাগোনা থাকে না। রোববার রাত ১টার দিকে গাড়ির শব্দ শুনে রেজাউল করিম বাড়ির বাইরে বের হন। একই সময়ে আশপাশের আরও কয়েকজনও বাইরে বেরিয়ে আসেন। ঠিক তখনই একটি সাদা রঙের নোহা গাড়ি দ্রুতগতিতে এসে পাশের একটি কবরস্থানের কাছে থামে।

 

ভুক্তভোগী রেজাউল করিম জানান, গাড়ি থামার কিছুক্ষণ পর সিভিল পোশাকে থাকা ছয় ব্যক্তি সেখান থেকে নেমে তাদের আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। লোকগুলো নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে গভীর রাতে তাদের বাইরে থাকার কারণ, পেশা ও পরিচয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চান।

 

তিনি বলেন, ‘লোকগুলো নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে আমাদের ধমকের সুরে জিজ্ঞেস করেন এত রাতে রাস্তায় ঘুরছি কেন? এরপর বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তারা বাড়িতে প্রবেশ করে এবং পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে।’

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে। যাওয়ার সময় তারা বাড়ির তিনটি মোবাইল ফোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্কও খুলে নিয়ে যায়, যাতে ঘটনার কোনো ভিডিও ফুটেজ না থাকে।

 

এদিকে, অভিনব কায়দায় পুলিশ পরিচয়ে এমন ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হোক।

 

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন